তোমার প্রেরণা যদি মে-দিবস হতে পারে, দিওয়ালি কেন আমার নয়?

কালিপূজা নাকি দীপাবলী(দিওয়ালি)- কোনটা আমার কোনটা আমার নয়। ন্যারেটিভ নামছে বিভিন্ন আঙ্গিকে। যারা ধর্মকে আফিম বলতো, তারাও আজ বলছে আমাদের কালিপূজা, দিওয়ালি আমাদের নয়! প্রশ্নটা বাঙ্গালী এই ন্যারেটিভ খাবে কি খাবেনা তা নিয়ে নয়, প্রশ্নটা হচ্ছে এরা বাঙ্গালীর বুদ্ধিবৃত্তির খিল্লি উড়াচ্ছে এটা যে বাঙ্গালী বুঝে নিয়েছে সেটা আজও কেন এরা বুঝতে পারে না?
পাকিস্তানের দাবিকে সমর্থন, পাকিস্তান সৃষ্টির পর দেশভাগের বলি বাঙ্গালী উদ্বাস্তু ভোটব্যাঙ্কের উপরেই ভিত্তি করে ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা! কী অদ্ভুত না? একদিকে দলিতের মসীহা সেজে ‘ওরা জীবনের গান গাইতে দেয় না’ অথবা ‘হো হো হো হো হেনরির হাতুড়ির সুর’- এ আকাশ বাতাস মুখরিত করে রাখা, অন্যদিকে মরিচঝাঁপিতে সেই দলিত নমঃশূদ্রদের মাথায় হেনরির হাতুড়ির নির্মম আঘাত হানা! আজও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করে যারা দলিত বাঙ্গালী উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ বানচাল করে দিতে চায়, তারাই বাঙ্গালীর মুখ হয়ে উঠতে চাইছে বাঙ্গালী-অবাঙ্গালী হিন্দুদের মধ্যে লড়াই লাগিয়ে দিয়ে! অথচ একদিন এরাই বলতো এদের দৃষ্টিতে সমাজ কেবলমাত্র দুটো শ্রেণিতে বিভক্ত- Haves আর Have nots! নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে প্রতিদিন এরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে কেবলমাত্র এই বিশ্বাসে যে জনগণের (পড়ুন বাঙ্গালীর) কোনদিনই তাদের এই দ্বিচারিতা ধরে ফেলার বুদ্ধি জন্মাবে না। আজ ৭% এ বান্ডিল হয়ে গিয়েও তাদের এই বিশ্বাস অটুট! কী আশ্চর্য রকমের নির্বোধ এরা!
আমার সোজাসুজি প্রশ্ন- রাশিয়া, চিন কিংবা ভিয়েতনাম যদি তোমার প্রেরণা হতে পারে, ভারতের অযোধ্যা কেন বাঙ্গালীর প্রেরণা হতে পারে না? হেনরির হাতুড়ি যদি তোমার প্রেরণা হতে পারে, রামচন্দ্রের ধনুষ্-বাণ কেন বাঙ্গালীর প্রেরণা হতে পারে না? আমেরিকার মে-দিবস যদি তোমার প্রেরণা হতে পারে, অযোধ্যার দিওয়ালি কেন বাঙ্গালীর প্রেরণা হতে পারে না? 
অন্য একটা আঙ্গিকে এই বিষয়টাকে দেখা যাক। কালিপূজা হল শাক্ত বাঙ্গালীর মূলধারা। যেখানেই বাঙ্গালী, সেখানেই মা কালী। এটা এক্সক্লুসিভলি বাঙ্গালীর। দীপাবলী বা দিওয়ালির সাথে বাঙ্গালীর এই কালীপূজার সম্পর্ক বিশেষ কিছু নেই। তবে দিওয়ালি কি? নিজেদের পরাক্রমে রাবণকে বধ করে স্বর্ণলঙ্কা বিজয়ের পরে রামানুজ লক্ষ্মণের মনে হল এই সমৃদ্ধ নগরী ছেড়ে আবার অযোধ্যায় ফিরে যাওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়! এই প্রস্তাব শোনার পরে শ্রীরাম বললেন ‘অপি স্বর্ণময়ী লঙ্কা, ন মে রোচতে লক্ষ্মণ/ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী’। সুতরাং এবার ঘরে ফেরার পালা। শ্রীরাম  অযোধ্যায় ফিরছেন। অযোধ্যাবাসী স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। কিন্তু সেই দিনটা ছিল অমাবস্যা। অমাবস্যার অন্ধকার কাটাতে অযোধ্যা নগরীকে দীপের আলোর সাজে সাজানো হল সেই রাতে। সেই থেকে দীপাবলী বা দিওয়ালি। অর্থাৎ দিওয়ালি হল ঘরে ফেরার উৎসব।
বাঙ্গালীর উদ্বাস্তুরা এই দিওয়ালিকে আপন করে নিতে পারে না ‘ঘরে ফেরা’-র সংকল্পের প্রেরণা হিসেবে? কি ভাবছেন? আকাশ কুসুম কল্পনা? ফ্যান্টাস্টিক ননসেন্স? ইহুদীরা ঘরে ফিরতে পেরেছে? হ্যাঁ, হয়তো প্রায় দু’হাজার বছর লেগেছে। কিন্তু ফিরেছে। এই দীর্ঘ সময় ধরে কয়েক প্রজন্ম ঘরে ফেরার স্বপ্ন, এই সংকল্পের আগুনকে বুকে জ্বালিয়ে রেখেছে এবং তারজন্য চেষ্টা করেছে বলেই তো সেটা সম্ভব হয়েছে! আমরা ভাবতে পারি না ঘরে ফেরার উৎসব একদিন আমরাও পালন করবো? রমনার কালীমন্দিরে কিংবা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে? যশোর থেকে সিলেট, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রাম আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে কোনও এক রাতে! আমরা ঘরে ফিরবো! হ্যাঁ, অখণ্ড বাংলা হবে। তবে সেটা গ্রেটার বাংলাদেশ নয়, সেটা হবে গ্রেটার পশ্চিমবঙ্গ, অখণ্ড সনাতনী বাংলা।

One thought on “তোমার প্রেরণা যদি মে-দিবস হতে পারে, দিওয়ালি কেন আমার নয়?”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s