এই আন্দোলন শুধুমাত্র মন্দির মুক্ত করার আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন বাঙ্গালী হিন্দুর অস্তিত্ব রক্ষার নির্ণায়ক লড়াই।

গত ৫ই আগস্ট রামজন্মভূমিতে বহু আকাঙ্ক্ষিত মন্দিরের ভূমিপূজন সম্পন্ন হল। যথারীতি আমাদের রাজ্যে শোরগোল শুরু হলেও এক্ষেত্রে হল যথেষ্ট পা-মেপে। কয়েকটা ফাঁপা ন্যারেটিভ চালানোর চেষ্টা হলেও সেগুলো যে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অচল, সেটা খুব তাড়াতাড়ি বুঝে নিয়ে সবাই যে যার ঘরে ঢুকে গিয়েছে। রামের বিপক্ষে বেশী কিছু বললে পায়ের তলার মাটি সরে যাবে, সেকথা বুঝে তিনিও মৌনব্রত অবলম্বন করলেন, যিনি একসময় শ্রীরামের নাম শুনলেই গাড়ি থেকে নেমে লোকজনকে তাড়া করতেন। একদা শ্রীরামের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা অনেক তথাকথিত সেকুলারকে বলতে শোনা গেল, “আমরাও রামকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু…..”।

আদিনাথ মন্দির

আমার দৃষ্টিতে রামমন্দির আন্দোলন কখনোই একটা মন্দির তৈরির লড়াই ছিল না। মন্দির তো একটা প্রতীক মাত্র! আসল লড়াই তো এই মাটির মালিকানা আদায়ের লড়াই, আইনের ভাষায় টাইটেল স্যুট। সোজা কথায় ভারত হিন্দুদের দেশ, এই দেশের উপরে একমাত্র হিন্দুদেরই অধিকার, বাকিরা অতিথি। ঘুরিয়ে বললে যারা ভারতের মাটির প্রতি অনুগত, ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তারাই হিন্দু এবং এই দেশের মালিক একমাত্র তারাই। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের পরে এই সত্যটা আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ ধান্দাবাজ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ভন্ড ধর্মীয় নেতৃত্ব এবং ভীতু সামাজিক নেতৃত্ব এই সত্যকে যতই অস্বীকার করুক এবং চেপে রাখার চেষ্টা করুক, সত্য সর্বদা সত্যই থাকে। রামজন্মভূমি আন্দোলনের পিছনে হিন্দুদের বিপুল মাত্রায় সমর্থনের কারণই হল এই যে, হিন্দুরা এই সত্যটাকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করে। ১৯৪৭ সালে রাজনৈতিক স্বাধীনতালাভ এবং ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হওয়ার পরেও এই দেশে হিন্দুরা যে যথার্থ স্বাধীনতা পায় নি তার অনুভব সাধারণ হিন্দুরা প্রতি মুহুর্তে করে থাকে। যে দেশে হিন্দুরা স্কুলে রামায়ণ-মহাভারত পড়ানোর অধিকার পায় না, অথচ তথাকথিত সংখ্যালঘুরা নিজেদের জন্য স্কুল তৈরি করার এবং সেখানে কোরাণ-বাইবেল পড়ানোর অধিকার পায়- সেদেশে হিন্দুরা কি সত্যিই স্বাধীন? যেদেশে মুসলমানরা প্রতি সপ্তাহে ধর্মের নামে রাজপথ দখল করে জনজীবন অচল করে রাখার অধিকার পায়, অথচ হিন্দুদের দুর্গাপূজা করার অনুমতির জন্য আইনের মারপ্যাঁচের লম্মুখীন হতে হয়, এমনকি প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়- সেদেশে হিন্দুরা কি সত্যিই স্বাধীন? যেদেশে মুসলিম পারসোনাল ল-এর সুবাদে একটা ১৫ বছরের নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে ছলে-বলে-কৌশলে ধর্মান্তরিত করে অনায়াসে বাল্যবিবাহ আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একটা মুসলিম ছেলের সাথে বিয়ে দিতে পারে অথচ হিন্দুরা ভারতের বর্তমান আইনকে মান্যতা দিয়েও বাড়ির নাবালিকা মেয়েটির রোধ করতে পারে না- সেদেশে হিন্দুরা কি সত্যিই স্বাধীন? যেদেশে সমস্ত নাগরিক সুযোগ-সুবিধায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর অধিকার মুসলমান-খ্রীষ্টানের পরে- সেদেশে হিন্দুরা কি সত্যিই স্বাধীন? যেদেশে মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রী রামচন্দ্রের জন্মস্থানকে বিদেশী হানাদারদের দখলদারী থেকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলন করতে হয়, গুলি খেতে হয়, প্রাণ দিতে হয়- সেদেশে হিন্দুরা কি সত্যিই স্বাধীন? যেদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর হাজার হাজার মন্দির ভেঙে তৈরি করা মসজিদগুলো আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন বিজাতীয় আক্রমণকারীদের জয়ঘোষ করে- সেদেশে হিন্দুরা কি সত্যিই স্বাধীন? এই প্রশ্ন কিন্তু প্রতিটি সাধারণ হিন্দুর মনে আজ দানা বেঁধেছে।

শৃঙ্খলাদেবী মন্দির

বস্তুত সেকুলারিজমের নামে ভারতে হিন্দুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক বানিয়ে রাখা হয়েছে, এই সত্য আজ একটি ওপেন সিক্রেট। হিন্দুরা আর এই অন্যায় সহ্য করতে রাজী নয়। তারা এই মাটির উপরে আরবদালালদের কর্তৃত্ব কখনোই স্বীকার করতে রাজী নয়। তারা এই মাটির উপরে নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য লড়তে-মারতে-মরতে প্রস্তুত। তাই এই লড়াই মন্দির বানানোর লড়াই নয়, এই লড়াই প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই। এই লড়াই এই মাটির উপরে হিন্দুর মালিকানা প্রতিষ্ঠার লড়াই। রামমন্দিরের ভূমিপূজন হওয়ার পরে মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেল থেকে ঘোষণা করেছে তারা ওই স্থানে আবার বাবরি মসজিদ ফিরে পেতে চায়। পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা বলেছেন ওখানে বাবরি মসজিদই আছে, থাকবে। এই সব বিবৃতি প্রমাণ করে যে বাবরের বংশধররা আজও ভারতের আইন-শাসন মানতে রাজী নয় এবং এই মাটিকে দখল করে আবার মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন তারা আজও দেখে। তাই এই টাইটেল স্যুটের লড়াই হিন্দুদের এখনও লড়তে হবে। আর এই লড়াই তখনই শেষ হবে যখন এই মাটির উপরে বাবরের বংশধরদের সামান্যতম দখলদারীও আমরা কেড়ে নিতে পারবো। সম্প্রতি মথুরায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমিকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে কৃষ্ণজন্মভূমি ন্যাস তৈরী হয়েছে। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বিদেশী আক্রমণকারীদের হাতে ধ্বংস হওয়া অগণিত হিন্দুর শ্রদ্ধাকেন্দ্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই বঙ্গের মাটির উপরে বাঙ্গালী হিন্দুর মানিকানা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হিন্দু সংহতি আপাতত মালদহের আদিনাথের মন্দির, যা আদিনা মসজিদ নামে পরিচিত, হুগলি জেলার ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম শৃঙ্খলাদেবীর মন্দির যা পান্ডুয়া মিনার নামে পরিচিত এবং ত্রিবেণী সঙ্গমে অবস্থিত বিষ্ণু মন্দির যা জাফর শাহ গাজীর দরগা নামে পরিচিত-এই কয়টি হিন্দুর মন্দির পুণরুদ্ধারের জন্য আন্দোলনে নামার কথা ঘোষণা করেছে। এই আন্দোলন শুধুমাত্র মন্দির মুক্ত করার আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন বাঙ্গালী হিন্দুর অস্তিত্ব রক্ষার নির্ণায়ক লড়াই।

ত্রিবেণী বিষ্ণুমন্দির

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s