নেপালের রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ার রাজকৃষ্ণ কর্মকার

রাজকৃষ্ণ কর্মকার প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন না। তাঁর বাবা মাধবচন্দ্র কর্মকার ছিলেন একজন দরিদ্র মিস্ত্রী। হাবড়ার দফরপুরে ১৮২৭ সালে রাজকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। দারিদ্র্যের কারণে পাঠশালায় পড়া শেষ করেই রাজকৃষ্ণ তাঁর বাবার সাথে কারিগরি কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তারপরে অল্প বয়সেই হাওড়া, হুগলী, কলকাতার বিভিন্ন কলকারখানায় শ্রমিক-কারিগর হিসেবে কাজে যোগদান করেন। ম্যাথামেটিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট ওয়ার্কশপ, মিন্ট, কাশিপুর গান ফাউন্ড্রি, দমদমের বুলেট ফ্যাক্টরিতে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। যুবক রাজকৃষ্ণ এরপরে চলে যান সিমলায়। সেখানে স্টিম ইঞ্জিন ও বয়লার বসিয়ে ময়দা ও পাউরুটি তৈরির তিনটি কারখানা স্থাপন করেন। ১৮৬৯ সালে সেখান থেকে চলে যান নেপালে। তাঁর কারিগরি বিদ্যার অভিজ্ঞতা এবং মৌলিক প্রতিভার দ্বারা নেপালে কার্যত আধুনিক সভ্যতা তথা উন্নয়নের দীপ জ্বালেন রাজকৃষ্ণ কর্মকার নামের বাঙ্গের এই সোনার ছেলে। আমরা তাঁকে মনে না রাখলেও নেপাল সরকার তাঁকে ‘#রয়্যাল_ইঞ্জিনিয়ার’ সম্মানে ভূষিত করেছিলেন।

কলকাতায় ফেরার কিছুদিনের মধ্যেই আফগানিস্তান সরকারের আহ্বানে বারো জন সহকারীকে নিয়ে কাবুলে যান। প্রায় আড়াই বছর ধরে আফগানিস্তানে অস্ত্র কারখানা স্থাপন, রেল লাইন বসিয়ে ট্রেন চালানো ইত্যাদি কাজে তিনি তাঁর প্রতিভার ছাপ রাখেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় আবার নেপালের রাজার ডাকে তিনি নেপালে চলে আসেন। নেপালে এসে তিনি প্রথম উন্নত ধরণের কামান, মেশিনগান ইত্যাদি অস্ত্র তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। এই সময়ে তিনি প্রথমবারের মত নেপালে বৈদ্যুতিক আলো জ্বালার ব্যবস্থা করেন। নেপালের রাজা খুশি হয়ে রাজকৃষ্ণকে ‘#ক্যাপটেন’ পদে অভিষিক্ত করেন।

রাজকৃষ্ণ কর্মকারদের মত বিস্মৃত বাঙ্গালী প্রতিভাদের স্মরণে রাজ্যে ‘মে দিবস’ এর পরিবর্তে একটা নির্দিষ্ট দিনে #শ্রমিককারিগরিদিবস পালন করলে সেটা বাঙ্গালী যুবসমাজের জন্য অত্যন্ত প্ররণাদায়ক হবে।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s