অভিজিত কি আবার রাজিয়াকে ফিরে পাবে?

অভিজিত ঘোষ। পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি থানার অন্তর্ভুক্ত একটি ছোট গ্রামের ছেলে। বয়স ২৬ বছর। ভালোবেসে বিয়ে করে ওই জেলার‌ই মন্তেশ্বরের মেয়ে রাজিয়া খাতুনকে। রাজিয়ার বয়স ২১ বছর। স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে রেজিস্ট্রি হয় ২৯-০৯-২০২০ তারিখে।

২৮-১১-২০২০ তারিখে রাজিয়ার বাবা এবং মা অভিজিতের বাড়িতে আসে এবং তাকে আশ্বস্ত করে যে এই বিয়ে তারা মেনে নিয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা রাজিয়াকে ডাক্তার দেখানোর অছিলায় তারা সাথে নিয়ে যায় নিজেদের বাড়িতে। এর পর থেকে অভিজিতের সাথে রাজিয়ার যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাজিয়ার সাথে দেখা করতে চাইলে রাজিয়ার বাড়ির লোকেরা অভিজিতকে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেয় এবং বিভিন্ন ভাবে তার ক্ষতি করার হুমকি দিতে থাকে। মেমারি থানায় অভিযোগ দায়ের করতে অসমর্থ হলে বাধ্য হয়ে পূর্ব বর্ধমান পুলিশ সুপারের কাছে ০৫-০২-২০২১ তারিখে লিখিত অভিযোগ জানায় অভিজিত।

এরপর থেকে আজ পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও রকম সহযোগিতা পায় নি অভিজিত। উল্টে তার কাছে একটি নোটিশ আসে যে রাজিয়া বিবাহ বিচ্ছেদ চায় এবং নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সে যদি আদালতে উপস্থিত না হয়, তবে এক তরফা বিচারের মাধ্যমে রায় ঘোষণা করা হবে। ইতিমধ্যে অভিজিতের পিতৃবিয়োগ হয়েছে এবং আদালতে হাজিরার দিনেই ঘাটের কাজ সম্পন্ন হ‌ওয়ার কথা।

এই পরিস্থিতিতে হিন্দু সংহতির সাহায্য প্রার্থনা করে অভিজিত জানিয়েছে যে সে প্রথমে আদালতে হাজিরা দেবে, তারপরে পিতৃশ্রাদ্ধের আবশ্যক কাজ করবে। কারণ সে রাজিয়াকে ফিরে পেতে চায়। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে কালনা কোর্টে একজন উকিল নিযুক্ত করা হয়েছে অভিজিতের পক্ষে। আগামীকাল শুনানি হতে চলেছে।

আসুন আমরা সবাই মিলে অভিজিত আর রাজিয়ার পাশে দাঁড়াই যাতে এই চক্রান্তের জাল ছিন্ন করে তারা দুজনে আবার পরস্পরকে ফিরে পায়।

পশ্চিমবঙ্গের ভূমিপুত্র কারা?

হরিয়ানায় বেসরকারি চাকরিতে ভূমিপুত্রদের জন্য ৭৫% সংরক্ষণ হল। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রথম সমস্যা হল ভূমিপুত্র কারা সেটা সংজ্ঞায়িত করা।

১৯৪৬ এর নির্বাচনে এই বঙ্গদেশের ৯০% এর বেশি মুসলমান পাকিস্তানের দাবির পক্ষে মুসলিম লীগকে ভোট দিয়েছিল। ১৯৪৭ এর ২০ শে জুন অখণ্ড বঙ্গের মুসলিম প্রতিনিধিদের মধ্যে একজন‌ও পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষে এবং পাকিস্তানে যুক্ত হ‌ওয়ার বিপক্ষে ভোট দেয় নি। যারা মনেপ্রাণে চেয়েছিল গোটা বাংলাই পাকিস্তানে যুক্ত হোক, কিন্তু সেটা না হ‌ওয়ায় এই নাপাক পশ্চিমবঙ্গেই থেকে গেল, এবং এই মাটির উপরেই জায়গায় জায়গায় মিনি পাকিস্তান গঠনের প্রক্রিয়া চালাতে থাকলো, তাদের কি ভূমিপুত্র বলা যায়?

পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অঙ্গরাজ্য। সুতরাং অন্যান্য রাজ্য থেকে যেকোনও লোকের এখানে এসে বসবাস করার, ব্যবসা করার, চাকরি করার, লেখাপড়া করার সাংবিধানিক অধিকার আছে। কিন্তু এই অধিকারের কি কোনও সীমা থাকা উচিত নয়? এই অধিকারের যদি কোনও সীমা না থাকে তাহলে যারা স্বভাবত আগ্রাসী নয়, তাদের অস্তিত্ব থাকবে? তাদের ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি বেঁচে থাকবে? যেখানে সহোদর ভাইদের মধ্যে প্রত্যেকের অধিকার শুধুমাত্র ‘গুড‌উইল’ এর উপরে রক্ষিত হয় না, আইনের উপরে নির্ভর করতে হয়, সেখানে হিন্দু বলেই বাঙ্গালী হিন্দুদের উপরে অবাঙ্গালী হিন্দুর আগ্রাসনের সম্ভাবনা নেই এবং থাকলেও সেটা মেনে নেওয়া উচিত একথা ভাবা কতটা বাস্তব সম্মত হবে? এই দৃষ্টিতে‌ও পশ্চিমবঙ্গের ভূমিপুত্র কারা এবং তাদের অধিকার, ভাষা, সংস্কৃতি সর্বোপরি তাদের অস্তিত্ব কিভাবে সুরক্ষিত থাকবে সেটা নির্ধারিত হ‌ওয়া উচিত।

এই সমস্ত বিষয়ে বাঙ্গালীকে প্রথমে মুক্তমনা হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ঘরে ফিরলো সামিমা

আমাদের রাজ্যে জনসংখ্যার ভারসাম্য প্রতিদিন পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলাফল স্বরূপ অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র‌ও স্থানান্তরিত হচ্ছে প্রতিদিন। সবাই বলছে খেলা হবে। কিন্তু খেলার রাশ ধীরে ধীরে বাঙ্গালী হিন্দুর হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে এটা অনস্বীকার্য।

হিন্দু সংহতি একটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে এই ইস্যুতে আওয়াজ তুলছে, দীর্ঘদিন ধরে বাঙ্গালী হিন্দুদের সতর্ক করে চলেছে। কিন্তু এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি রাজনৈতিক মঞ্চে এখনও গুরুত্বহীন। বিজেপিও এই সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত NRC এবং CAA ইস্যুতে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইন যদিও এই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান নয়, তবুও এই আইন আপাতত জনবিস্ফোরণের চেইন রিয়্যাকশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। এই জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়েও কার‌ও কোনও উচ্চবাচ্য দেখা যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে এই সমস্যা নিয়ে সোচ্চার হ‌ওয়ার পাশাপাশি  হিন্দু সংহতি রামায়ণে বর্ণিত কাঠবিড়ালির মত তার সীমিত সামর্থ্য নিয়ে চেষ্টা করে চলেছে এই সমস্যার সমাধানের অন্যতম একটি পথের দিশা দেখাতে। এই পথ ধর্মান্তরকরণ রোধের পথ, এই পথ ঘরে ফেরানোর পথ।

আজ ঘরে ফিরলো সামিমা (নাম পরিবর্তিত)। সে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মেয়ে। কলেজ ছাত্রী। বয়স ২০ বছর। সহপাঠী সমীরের হাত ধরে তার এই সনাতনী সমাজে প্রত্যাবর্তন। একদিকে ‘দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী’-র স্বভাবসিদ্ধ প্রতিক্রিয়া, অপরদিকে তথাকথিত উদার হিন্দু সমাজের রক্ষণশীল প্রত্যাখ্যান- এর জাঁতাকলে পিষ্ট সমীর সামিমার জুটিকে সাদর অভ্যর্থনা জানাবে কে? তাদের সামাজিক সম্মানের সাথে সাথে নিরাপত্তা দেবে কে? তাদের আইনী সহায়তা দেবে কে? তাদের পায়ের তলায় মাটি আর মাথার উপরে ছাদের ব্যবস্থা করবে কে?

আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করে চলেছি। আপনারাও করুন। এই কাজে আমাদের সাথে থাকুন।

শুধুমাত্র বাংলাভাষাকে তারা আংশিক ধরে রেখেছে বলেই কি তাদের বাঙ্গালী বলা যায়?

বাঙ্গালী যখন মুসলমান হয় তখন সে তার বাঙ্গালী নাম পরিবর্তন করে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পূর্বপুরুষের পদবী (সারনেম) পরিবর্তন করে, পোষাক বিধি (ড্রেসকোড) পরিবর্তন করে। তার পালনীয় উৎসব আলাদা হয়ে যায়, তার উপাস্য আলাদা হয়ে যায়, তার বলায় এবং লেখায় ব্যবহৃত শব্দাবলী অর্থাৎ ভাষা আলাদা হয়ে যায়, পরিজনদের সাথে তার সম্পর্কের নামগুলো আলাদা হয়ে যায়( মা হয় আম্মা, কাকা হয় চাচা ইত্যাদি), তার সমাজ আলাদা হয়ে যায়, সামাজিক মূল্যবোধ আলাদা হয়ে যায়, পাপপুণ্যের বোধ আলাদা হয়ে যায়, তার শত্রু-মিত্রের বোধ আলাদা হয়ে যায় (কাফের-মোমিন), তার হিরো-ভিলেনের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়(বখতিয়ার খিলজি, জাফর খাঁ গাজী, শাহজালালের মত বিদেশী আক্রমণকারীরা তার চোখে হিরো আর লক্ষ্মণ সেন, প্রতাপাদিত্য, রাজা গণেশরা ভিলেন)। তার পূর্বপুরুষরা আত্মীয় থেকে শত্রুতে পরিনত হয়, পূর্বপুরুষের উপাস্য তার কাছে ঘৃণ্য হয়ে যায়। এক কথায় তার সামগ্রিক জীবনদর্শন পরিবর্তিত হয়ে যায়।এইভাবে যারা নিজের পূর্বপুরুষের সাংস্কৃতিক শিকড় থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, শুধুমাত্র বাংলাভাষাকে তারা আংশিক ধরে রেখেছে বলেই কি তাদের বাঙ্গালী বলা যায়?

মুসলমানরা অংশীদারিত্ব চায় না, ওরা দখল চায়

মুসলমানরা অংশীদারিত্ব চায় না, ওরা দখল চায়। আজকে ব্রিগেডের দখল হচ্ছে আগামীকাল সম্পূর্ণ পশ্চিমবঙ্গের মাটি দখলের মহড়া। তৃণমূল আগেই আত্মসমর্পণ করে দিয়েছে মুসলিম মৌলবাদী শক্তির সামনে। তৃণমূলকে চুষে নিয়ে, ছিবড়ে করে, ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে মুসলিম সমাজের একাংশ আজকে পরিবর্তনমুখী। ঠিক যেন সাপের খোলস ত্যাগ করার মত। এদিকে বাম-কংগ্রেস নেতৃত্ব‌ও আজকে বুঝিয়ে দিল যে আব্বাস সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ISF হল তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জাপানি তেল।ববি হাকিম, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীরা তৃণমূলে, মহম্মদ সেলিম, মান্নান সাহেব, আব্বাসরা জোটে এবং কাশেম আলী, বাবু মাস্টার, ইয়াসিন শেখরা বিজেপিতে থেকে তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অ্যাজেন্ডা সফল করার কাজ করতে থাকবে। মুসলিম সমাজ প্রতিটি দলে কর্মরত তাদের প্রতিনিধিদের সবদিক দিয়ে সহযোগিতা করে এদের শক্তি ও উচ্চতা বাড়াতে থাকবে। যে দল‌ই ক্ষমতায় আসুক না কেন ওদের কাছে The situation is ‘Head I win, tail you lose’.

ওয়াকফ: দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার (২)

হাদীস ও ইসলামী সংস্কৃতির রীতি অনুযায়ী ধর্মীয় কাজে চিরস্থায়ীভাবে নিজের মালিকানাধীন সম্পদকে উৎসর্গ করাই হচ্ছে ওয়াকফ। যিনি দাতা তাকে বলা হয় ওয়াকিফ এবং যিনি ওয়াকফ সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ করেন তাকে বলা হয় মোতোয়ালি। প্রথম পর্বে আমি বলেছি যে মুসলিম শাসনকালে প্রচুর সম্পত্তিকে ওয়াকফ করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে যে স্বাধীন ভারতে, বিশেষত ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হওয়ার পরে স্বাধীনতার আগে করা ওয়াকফ সম্পত্তির কোনও বৈধতা থাকা কি উচিত? দেশভাগের পরে অনেক মুসলমান ভারতে তাদের জমি ছেড়ে পাকিস্তানে চলে গেছে। পাকিস্তান থেকে ভারতে এসে অনেক হিন্দু পরিবার সেই সমস্ত খালি জমিতে বসতি স্থাপন করেছে, ব্যবসা শুরু করেছে। সেই সময়ে কোনও জমি ওয়াকফ ছিলো, এই কথা বলে সেই সময়কার রেকর্ড দেখিয়ে আজকে যদি কেউ সেই জমির অধিকার দাবি করে, সেই দাবি কি অনৈতিক নয়? ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত ভারতে আলিবর্দী খাঁ-র করে যাওয়া ওয়াকফের কী মূল্য আছে? দেশভাগের ফলে গোটা দেশটার স্ট্যাটাস পরিবর্তন হয়ে গেল অথচ এইভাবে ওয়াকফ করা জমিগুলোর স্ট্যাটাস আজও অপরিবর্তিত থাকবে? সরকার এই জমির ভাড়া দেবে? তাই ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্টের আগে পশ্চিমবঙ্গের বুকে যত সম্পত্তি ওয়াকফ করা হয়েছে, সেগুলোর ওয়াকফনামা অবৈধ বলে ঘোষণা করা হোক

এখন দেখা যাক আমাদের দেশের ওয়াকফ আইন কী বলছে। এই আইনে রাজ্য সরকারকে নিজের রাজ্যের জন্য ওয়াকফ বোর্ড গঠন করার অধিকার দেওয়া হয়েছে (U/S 13/1 of The Wakf Act, 1995)। এই বোর্ডে কোনও হিন্দু স্থান না পেলেও তারকেশ্বরের হিন্দু মন্দিরের কমিটির মাথায় অনায়াসে একজন মুসলিম বসতে পারেন। ওয়াকফ বোর্ড রাজ্যের সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তির নিয়ন্ত্রক। এই আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকার নিযুক্ত একজন সার্ভে কমিশনারের তত্ত্বাবধানে সার্ভের মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তিগুলোকে চিহ্নিত করতে হয়((U/S 4/1 of The Wakf Act, 1995) । কমিশনার তার সার্ভে রিপোর্ট রাজ্য সরকারকে দিলে রাজ্য সরকার সেটা ওয়াকফ বোর্ডের কাছে পাঠিয়ে দেয় এবং ওয়াকফ বোর্ডকে এই রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্যের ওয়াকফ সম্পত্তির একটা তালিকা তাদের অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশিত করতে হয়। আইন বলছে, যদি এই তালিকা সম্পর্কে কারও কোনও অভিযোগ থাকে তাহলে তাকে ওই তালিকা প্রকাশিত হওয়ার দিন থেকে এক বছরের মধ্যে ওয়াকফ ট্রাইবুনালের সামনে দাখিল করতে হবে। এই সময়ের পরে আর কোনও আপীল ট্রাইবুনাল গ্রহণ করবে না এবং প্রকাশিত ওয়াকফের তালিকাই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি কি জানেন যে আপনার জমি ওয়াকফের তালিকাভুক্ত কি না? আপনি কি জানেন এই তালিকা কোথায় প্রকাশিত হয়েছে? আপনি কি জানেন যে ওয়াকফ সম্পর্কিত কোনও অভিযোগের বিচার করার এক্তিয়ার কোনও সিভিল কোর্টের নেই?

ওয়াকফ: দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার (১)

ওয়াকফ আইন অনুযায়ী যে কোনও সম্পত্তির ক্ষেত্রে ওয়াকফ বোর্ড যদি মনে করে যে সেটা ওয়াকফ সম্পত্তি, ওয়াকফ বোর্ড নিজেই তার তদন্ত শুরু করতে পারে, শোকজ নোটিস পাঠাতে পারে এমনকি অর্ডার পাশ করতে পারে। ওয়াকফ বোর্ডের এই আদেশ চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে যদি না সেটা ট্রাইবুনাল কর্তৃক পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ ওয়াকফ বোর্ডকে এক্ষেত্রে সুয়োমোটো পাওয়ার দেওয়া হয়েছে। ওয়াকফ সম্পত্তিতে এনক্রোচমেন্টের অভিযোগের ভিত্তিতে অথবা নিজের উদ্যোগে বোর্ড সরাসরি জায়গা খালি করার আদেশ দিতে পারে। অর্থাৎ আগামীকাল সকাল বেলাতেই ইডেন গার্ডেন, ফোর্ট উইলিয়াম কিংবা আকাশবাণীকে জায়গা খালি করে দেওয়ার নির্দেশ পাঠানোর আইনসম্মত অধিকার ওয়াকফ বোর্ডের আছে।

আমাদের দেশের সব রাজনৈতিক দল মুসলমানদের সামনে নতজানু। ওয়াকফ সম্পত্তি যাতে বেদখল না হয়, তারজন্য সবাই উদ্বিগ্ন। ২০১১ তে ক্ষমতায় আসার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াকফ সম্পত্তি নয়-ছয়ের তদন্তের ভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দিতে চান। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তিনি মুসলমানদের এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে ৩২টি ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিশেষ তদন্তের ভার তুলে দিয়েছিলেন সিআইডি-র হাতে। গত ১১ই ফেব্রুয়ারী, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে আগে লোকসভায় এই প্রসঙ্গ তোলেন বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এবং খগেন মুর্মু। তাঁদের প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নকভি বলেন ওয়াকফ সম্পত্তিকে বেআইনী দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করতে কেন্দ্র সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।মুসলিম সংগঠন এবং নেতারাও ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে মাঝেমাঝেই সুর চড়াচ্ছেন। তারা দাবী করেছেন যে কতকাতায় যে পরিমাণ ওয়াকফ সম্পত্তি আছে তার ভাড়াই ৮০০ কোটি টাকা। দাবি উঠেছে ‘ওয়াকফ সম্পত্তিতে আমাদের অধিকার’।

ভাবুন তো, হিন্দুদের দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষা করা কিংবা সেগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের দেশে কোনও শক্তপোক্ত ব্যবস্থা আছে? কেউ কি ভেবেছে সেকথা? কত দেবোত্তর সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে কেউ কি তার খবর রাখে? আজ সময় এসেছে। দ্বিধাহীন চিত্তে জোর গলায় আওয়াজ তুলতে হবে- পশ্চিমবঙ্গ বাঙ্গালী হিন্দুর হোমল্যান্ড, এর প্রতিটি ধুলিকণার মালিক বাঙ্গালী হিন্দু। দেশভাগের মাধ্যমে আমরা মাটি হারিয়েছি। এখনও আমাদের মাটি কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে বিভিন্নভাবে। ওয়াকফ বিষয়টি একটি ঘমন্ত দৈত্য। আমরা এবিষয়ে সচেতন না হলে এ মাটির দখল ছাড়তে হবে।    

  আরও পড়ুন: দেশ এবং জাতিকে বাঁচতে হলে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী করতে হবে; প্রয়োজনে সংবিধানের ৩০ ধারা বিলোপ করে সবার জন্য সমান শিক্ষা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে

ওয়াকফ: দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার (১)

১২০৪ সাল থেকে বঙ্গভূমির উপরে ইসলামের আক্রমণ শুরু হয়। বখতিয়ার খিলজি নবদ্বীপ দখল করেন। সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য উত্তর দিকে যাত্রা শুরু করে তিনি কোচদের হাতে সম্পূর্ণভাবে পর্যুদস্ত হন এবং ১২০৬ সালে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু উল্লেখযোগ্য যে এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সদ্য অধিকৃত নদীয়ায় বেশ কয়েকটি মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ তৈরি করেন। যে কোনও মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দেখা যায় যে মুসলিম শাসকরা অধিকৃত ভূমিতে গুরুত্ব সহকারে মসজিদ, মাদ্রাসা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। শক, হূণ, কুষাণ ইত্যাদি বহিরাগত হানাদারদের আক্রমণের সাথে ইসলামী আক্রমণের এটা অন্যতম মূলগত পার্থক্য। মুসলমানদের আক্রমণের পিছনে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের প্রেরণা ছিল না, ছিল ধর্মীয় প্রেরণা। অবশ্য ইসলাম অনুযায়ী সাম্রাজ্য বিস্তার (দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠা) এর জন্য বিধর্মীদের সাথে যুদ্ধ (জেহাদ), বিধর্মীদের সম্পদ এবং নারী লুন্ঠন (গনিমতের মাল) এগুলিও ধর্মীয় অনুষ্ঠান। তাই আমরা সনাতন ধর্মকে যে চোখে দেখি, ইসলামকে সেই চোখে দেখলে হবে না। আমাদের সনাতন ধর্ম‌ও অবশ্যই রাজনীতি বাদ দিয়ে নয়। রামায়ণ, মহাভারত পড়ুন, রাজা হরিশচন্দ্র, রাজা উশীনরের উপাখ্যান পড়ুন, জানতে পারবেন সনাতনী দৃষ্টিতে ক্ষাত্রধর্ম কি। ওদের সাথে আমাদের এই পার্থক্য সাংস্কৃতিক উত্তরণের স্তরের পার্থক্য। চাল, ভাত আর পায়েসের মধ্যে যে পার্থক্য থাকে, এই পার্থক্য হল সেটাই। তাই ধর্মের প্রসঙ্গ উঠলেই মুড়ি-মুড়কি একদর গোছের ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি না আওড়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে।

ওয়াকফ: দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার (২)

যাইহোক, মূল আলোচ্য বিষয় জমি দখল। এবং সেটা বিশ্বব্যাপী নিজেদের মতবাদের প্রতিষ্ঠা এবং অন্যান্য মতবাদের ধ্বংসের উদ্দেশ্যে। মুসলিম আক্রমণের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখবেন যে কোনও এলাকায় তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা হ‌ওয়ার পরেই সেখানে মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ, মাজার ইত্যাদির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে গুরুত্ব সহকারে এবং এই উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করা জমিকে আল্লাহ-র কাছে উৎসর্গ করা হয়েছে, অর্থাৎ সেই জমির মালিক হয়েছেন আল্লাহ স্বয়ং। আল্লাহর মালিকানাধীন এই ধরণের সম্পত্তিকে আউকাফ বা ওয়াকফ সম্পত্তি বলা হয়। মুসলিম শাসনাধীন বঙ্গে শাসকদের এবং সাধারণ মুসলিম সমাজের উদ্যোগে এইভাবে অসংখ্য ওয়াকফ সম্পত্তি তৈরি হয়েছে যেগুলোর বেশিরভাগ‌ই দেশভাগের পরেও ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবেই আছে, অধুনা বাংলাদেশে তো বটেই, এমনকি আমাদের পশ্চিমবঙ্গের মাটিতেও।

দেশে এখন ৬ লক্ষের বেশি ওয়াকফ সম্পত্তি, যার ৪৯% আছে কর্ণাটক, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরপ্রদেশে। দেশে প্রতিরক্ষা, রেল মন্ত্রকের পর তৃতীয় বৃহৎ সম্পত্তি রয়েছে ওয়াকফ বোর্ডের হাতে। সাচার কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ২০০ টি। যার মাত্র ২৩ হাজারের মতো সম্পত্তি রয়েছে ওয়াকফ বোর্ডের আওতায়। প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার সম্পত্তির কোন হদিস নেই। ২০১০ সালে কলকাতা বাদে গোটা রাজ্যে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে যে সার্ভে করা হয় তাতে দেখা গিয়েছে ১৬,৪৩,৩৬০ একর সম্পত্তি রয়েছে গোটা রাজ্যে।

কলকাতায় ব্রিটিশরা টিপু সুলতানের পরিবারকে নির্বাসিত করেছিল টালিগঞ্জে। সেই টালিগঞ্জের প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের সংলগ্ন সতীশচন্দ্র রায় রোডের ওয়াকফ সম্পত্তির উপরে আজ মার্কেট কমপ্লেস হলেও জমির মালিকানা কার হাতে? প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডেই অবস্থিত দাতাবাবার মাজার। দাতাবাবা মাজার লাগোয়া আরপি কলোনির সম্পত্তি ওয়াকফ সম্পত্তি। টালিগঞ্জে গলফ-ক্লাবের জমি ওয়াকফের, ক্লাব আজও তার ভাড়া দেয়। কলকাতার (দক্ষিন) যাদবপুরের মতো জায়গার সুলেখা মার্কেট, গড়ফা, পূর্বাচল কিংবা সন্তোষপুরে ব্যাপক সংখ্যক ওয়াকফ সম্পত্তি কিন্তু ওয়াকফ সম্পত্তি। রাজভবন (গভর্নর হাউস), মোহামেডান, ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ক্লাবের জায়গাও ওয়াকফের। এমনকি আকাশবাণী ভবন (কলকাতা), ফোর্ট উইলিয়ামস (ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তর), ময়দান ও সংলগ্ন এলাকা, ইডেন গার্ডেনস ওয়াকফ সম্পত্তি। সবই ওয়াকফ সম্পত্তি, যার জমির পরিমাণ ২৫৫৫ বিঘা। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সরকার ১৯৯ টাকা ভাড়া দিত। তারপর মোতায়ালি (তদারক কারী) মওলানা আবুল বরকত সাহেব ৯৯ বছর বয়সে মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীকে আর ভাড়া দেয় না রাজ্য সরকার। বাংলা বিহার-ওড়িশার নবাব আলীবর্দি খাঁ তার শাসনকালে এই ২৫৫৫ বিঘা জমি দান করে যান।

লক্ষ্য করুন, মুসলিম শাসনের অবসান হয়েছে, ইংরেজ শাসন শেষ হয়েছে, ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়েছে কিন্তু একটা বিশাল পরিমাণ জমির মালিক থেকে গেছেন আল্লাহ। অর্থাৎ এই জমির উপরে মুসলমানদের দখল থেকে গেছে আইনত। মুসলমানরা ইতিমধ্যেই ওয়াকফ সম্পত্তিগুলোর দাবিদার হিসেবে আওয়াজ তোলা শুরু করেছে। দেশভাগের সময় অনেকেই পাকিস্তানে চলে গিয়েছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে যাওয়া ওয়াকফের দিকে তাদের নজর আছে।

কিছুদিন আগের ঘটনা। একজন বাংলাদেশী নাগরিক নিজেকে বিখ্যাত পান্ডুয়া মসজিদের মোতোয়ালি হিসেবে দাবি করেন। তিনি পান্ডুয়ায় থেকে মোতোয়ালি হিসেবে কাজ‌ও শুরু করছিলেন। অভিযোগ ওঠায় আদালত তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মালদা জেলার প্রশাসনকে। যদিও তিনি নিরুদ্দেশ হয়ে যান। কিছুদিন আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি ছেলে আমার সাথে দেখা করে। দেশভাগের সময় স্থানীয় এক মুসলমানের সাথে তারা ‘জমি বিনময়’ করে ভারতে চলে আসে। এখানে সেই মুসলমানের জমিতে একটি ছোট মসজিদ ছিল। বাংলাদেশ থেকে আসা পরধর্মে শ্রদ্ধাশীল হিন্দু পরিবারটি সংস্কারবশতঃ সেই মসজিদটাকে ভেঙে ফেলে নি। কিছুদিন আগে বাংলাদেশে চলে যাওয়া সেই মুসলিম পরিবারের কোনও এক আত্মীয় স্থানীয় মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে এসে সেই মসজিদ এবং সংলগ্ন জমি ওয়াকফ বলে দাবি করে।

মনে রাখতে হবে যে রাজনৈতিক শাসন ক্ষমতা অস্থায়ী কিন্তু ওয়াকফের মাধ্যমে জমি দখল আইনত স্থায়ী। পৃথিবীর বুকে প্রতিটি ভূমিখন্ড হল ইউনিক। এর কোনও ডুপ্লিকেট হয় না। এক একটা প্লট এভাবে দখল হ‌ওয়া মানে হল স্বাধীন ভারতে আইনত নিজের পায়ের তলার মাটির উপরে হিন্দুর দখল হারানো।

আরও পড়ুন: দেশ এবং জাতিকে বাঁচতে হলে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী করতে হবে; প্রয়োজনে সংবিধানের ৩০ ধারা বিলোপ করে সবার জন্য সমান শিক্ষা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে

কুকুর মারলে জরিমানা; গরু মারলে কি?

কেন্দ্র সরকার আইন আনছে কুকুর মারলে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা। স্বাগত জানাই। কিন্তু গরু মারলে? কি বললেন? গরু অনেকের খাদ্য, তাই গরু মারলে জরিমানা করা যাবে না? কুকুর‌ও তো অনেকের খাদ্য। নাগা, কুকি, লুসাই, মার, ব্রু এই ধরণের অনেক কমিউনিটির লোকেই কুকুর খায়। ভোটের নিরিখে কুকুর খাদকদের সংখ্যা নগণ্য বলে এদের খাদ্য নির্বাচনের অধিকার থাকবে না?

আমি কুকুর মারার পক্ষপাতী মোটেই ন‌ই। কিন্তু পশুহত্যাকে কেন্দ্র করে একটা ভন্ডামি চলছে, পক্ষপাতিত্ব চলছে। এটা বন্ধ হ‌ওয়া দরকার। কুকুর মারার প্রতিবাদ করলে আমি পশুপ্রেমী, ডগ লাভার আর গোহত্যার প্রতিবাদ করলে আমি সাম্প্রদায়িক- এই ভন্ডামি চলবে না।

কয়েকটা রাজ্যে গোহত্যা নিরোধক আইন এসেছে। কেন্দ্র সরকার এক‌ই ধাঁচে আইন করে গোহত্যা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করুক।

Cruelty to animals প্রশ্নে আর একটা বিষয় না বললে চলবে না। এই আইনে খাদ্য হিসেবে নির্বাচিত পশুদের হত্যা করার সময়ে তাদের গলা অর্ধেক কেটে ফেলে রাখা অর্থাৎ জবাই (হালাল) করার প্রথার উপরে নিষেধাজ্ঞা আনা উচিত। কারণ এই পদ্ধতি সর্বাধিক নিষ্ঠুর পদ্ধতি। ধর্মের দোহাই দিয়ে এই নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দেওয়াও কি ভন্ডামি নয়?

এই পরিবর্তনের ডাক একটা ভাঁওতা; চাই বাঙ্গালী হিন্দুর দল

একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাদ্রাসার জন্য ৫০ কোটি বরাদ্দ করলেন, অন্যদিকে শমীক ভট্টাচার্য্য মাদ্রাসা শিক্ষকদের দাবিদাওয়ার সমর্থনে গলা ফাটাচ্ছেন।

যারা ক্ষমতা দখলের জন্য যেকোনো পর্যায়ে সমঝোতা করতে পারে, তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যও যেকোনো পর্যায়ে সমঝোতা করতে দ্বিতীয়বার ভাববে না। বঙ্গ রাজনীতিতে এদের বিকল্প চাই। হাতে সীমিত সময়, তবুও এছাড়া সমাধানের অন্য কোনও পথ নেই। আমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বসে থাকায় বিশ্বাস করি না। মা কালীর আশীর্বাদ থাকলে আমরাই এই পথের সূচনা করতে চলেছি।

আমাদের ভবিষ্যত, সংগঠনের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবিত ন‌ই। বাঙ্গালী হিন্দু জাতির ভবিষ্যত‌ই আমাদের সকলের ভবিষ্যত। আগামী নির্বাচনের তুলনায় আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যত নিয়েই ভাবতে চাই। ২০২৬ এ যে দল‌ই ক্ষমতায় আসুক না কেন, রাজ্যের তৎকালীন বিধানসভায় বাঙ্গালী হিন্দুদের স্বার্থে একটা শক্তিশালী প্রেসার গ্রুপ যদি না দাঁড় করানো যায়, তবে এই লড়াই অনেক অনেক কঠিন এবং অসম হয়ে যাবে। রাজনীতিতে বিশ্বাস বা ভরসা নয়, একমাত্র ‘চাপ’ ফলপ্রসূ হয়। তাই কোনও দল অথবা নেতার উপরে নয়, নিজেদের ক্ষমতার উপরে ভরসা রেখেই এগোতে চাই। তাই এই নির্বাচনেই বীজ রোপন হবে।

We are soldiers by choice, we know that a soldier lives by chance but we know that soldiers always write the history.

দেশ এবং জাতিকে বাঁচতে হলে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী করতে হবে; প্রয়োজনে সংবিধানের ৩০ ধারা বিলোপ করে সবার জন্য সমান শিক্ষা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে

মাদ্রাসা সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর- ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের এই উক্তি নিয়ে তুমুল শোরগোল হয়। ইসলামিক মৌলবাদী এবং তাদের দালাল সেকুলার ব্রিগেডের চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত এই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হয় বুদ্ধদেববাবুকে। কিন্তু অন্ধ হলেই কি প্রলয় বন্ধ হয়? উল্কার বেগে বাড়তে থাকা মাদ্রাসার সংখ্যা আজ রীতিমত আমাদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণের পরে এনআইএ রাজ্যের কয়েকটি মাদ্রাসায় তল্লাসী চালায় এবং তা থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে চলে আসে। পরবর্তীকালে জেএমবি এমনকি আল-কায়দার সাথে যুক্ত বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসবাদী রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরা পড়ে, যাদের সাথে মাদ্রাসার সুস্পষ্ট সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। এই কারণেই মাদ্রাসা শব্দটা আজ যথেষ্ট পরিচিত এবং বিতর্কিত। কিন্তু মাদ্রাসা সম্পর্কে আমরা কতটা জানি?

আরও পড়ুন: ওয়াকফ: দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার (১)

অনেকেই মনে করেন মাদ্রাসা মানে পাঠশালা বা স্কুল। কিন্তু সাধারণ পাঠশালা বা স্কুলের সাথে মাদ্রাসার পার্থক্য হল এই যে, মাদ্রাসা হল ইসলামের তত্ত্ব শিক্ষার পাঠশালা। এই শব্দটি আরবি শব্দ দারসুন থেকে উদ্ভূত যার অর্থ ‘পাঠ’। মাদ্রাসা মূলত মুসলমানদের অধ্যয়ন-গবেষণা প্রতিষ্ঠান। সাধারণ অর্থে মাদ্রাসা হচ্ছে আরবি ভাষা ও ইসলামি বিষয়ে অধ্যয়নের প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসার প্রাথমিক স্তর মক্তব, নূরানি বা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা নামে অভিহিত। ফোরকানিয়া শব্দের মূল ফুরকান যার অর্থ বিশিষ্ট। মিথ্যা থেকে সত্যকে সুস্পষ্টভাবে পৃথক করার দাবি রাখে বলে কোরানের আরেক নাম আল-ফুরকান। প্রাথমিক স্তরের যেসব মাদ্রাসায় কোরান পাঠ ও আবৃত্তি শেখানো হয় সেগুলিকে বলা হয় দর্‌সে কুরআন। সাধারণত স্থানীয় কোন মসজিদেই আশেপাশের পরিবারের ছোটদের প্রাথমিক পর্যায়ের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়। মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনরাই সাধারণত এর শিক্ষক বা উস্তাদ হন। মাদ্রাসার শিক্ষাপদ্ধতির মৌলিক পাঠ্যসূচীকে বলা হয় দারস-ই-নিজ়ামি। মাদ্রাসায় পঠন পাঠন সাধারণত আরবি ভাষায় দেওয়া হয়; স্থানীয় ভাষা সেস্থানে সর্বদাই উপেক্ষিত। কোরান, হাদিশ, সিরাত (হযরত মহম্মদের জীবনী) ছাড়া শিশুরা যা শেখে তা হল ইসলামিক সাম্রাজ্য বিস্তারের ইতিহাস। বিশেষ করে ইসলাম যেসব দেশ দখল করেছে, সেসবের সামরিক ইতিহাস। এইভাবে ধীরে ধীরে তাদের মগজে জিহাদের বীজ বপন করা হয়। সকলের জানা উচিত যে ইসলামে কাফেরদের বিরুদ্ধে দীর্ঘকালীন যুদ্ধের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যতদিন না পর্যন্ত পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ ইসলাম কবুল করছে এবং সমগ্র পৃথিবীর উপরে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠত না হচ্ছে — জিহাদ জারি থাকবে।

আরও পড়ুন: ওয়াকফ: দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার (২)

জনৈক ইসলামিক পণ্ডিত শ্রী দেবেন্দ্র মিত্তল তাঁর হিন্দি পুস্তক “হিন্দুস্তান মেঁ মাদ্রাসা” গ্রন্থে (৬৭ থেকে ৭৪ তম পাতা) লিখেছেন যে, মাদ্রাসায় শুধু এটাই শেখানো হয় — তোমরা শুধু আল্লাহকে মান্য করবে; কিন্তু মাতৃভূমি হিসেবে কোনও দেশকে নয়। একইসাথে মাদ্রাসায় অমুসলমানদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করা হয়, ভয় দেখানো হয় যে; ওদের সাথে বন্ধুত্ব করলে ওদের মতই তুমিও নরকে যাবে। সবচেয়ে বড় কথা মাদ্রাসাগুলিতে দুটো জিনিস শিক্ষার্থীদের মগজে গেঁথে দেওয়া হয়— অমুসলমানদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে এবং সম্ভব হলে সর্বত্র গণতন্ত্রের জায়গায় শরিয়া-র শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

১৯৪৭ সালে সদ্য বিভাজিত হওয়া ভারতে মোট মাদ্রাসার সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৮; বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষের কাছাকাছি। পশ্চিমবঙ্গে সরকার অনুমোদিত এবং খারিজি (অনুমোদন বিহীন) মিলিয়ে মাদ্রাসার সংখ্যা ৬ হাজারের আশপাশে, যার মধ্যে খারিজি মাদ্রাসার সংখ্যাই পাঁচ হাজারের উপরে। এই বিপুল সংখ্যক খারিজি মাদ্রাসার উপরে সরকারের কোনও রকমের নিয়ন্ত্রণ নেই। এই লাগামছাড়া মাদ্রাসাগুলোতে মুসলমান শিশু এবং কিশোরদের মনে যেভাবে অসহিষ্ণু আব্রাহামিক মতবাদের বীজ বপন করা হচ্ছে তাতে ভরতের মাটিতে Clash of Civilisation বা সভ্যতার সংঘাত অদূর ভবিষ্যতে একটা চরম রক্তক্ষয়ী রূপ নেবে।

এখন অনেকেই হয়তো জাস্টিস সাচারের রিপোর্টের উল্লেখ করে বলবেন যে এই রিপোর্টের ৭৬ নং পৃষ্ঠায় তিনি দাবি করেছেন — ‘মাত্র ৪% মুসলিম শিশু নিয়মিত মাদ্রাসা যায়’। তার এই দাবী সর্বৈব মিথ্যা। ভারতের জনগণকে বিভ্রান্ত করতে জাস্টিস সাচার ইচ্ছাকৃত ভাবে মাত্র ৭ থেকে ৯ বছরের শিশুদের এই তালিকায় রেখেছেন, ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীদের এই তালিকায় রাখেন নি। রাখলে সংখ্যা ৪% হত না। সবচেয়ে মজার বিষয় হল ঐ রিপোর্টের ৭৭ নং পৃষ্ঠায় তিনি স্বীকার করেছেন, এখানে মাদ্রাসা মানে সেইসব মাদ্রাসা, যা মসজিদের সাথে যুক্ত নয়! অথচ সকলেই জানেন যে অধিকাংশ মাদ্রাসাই মসজিদের সাথে যুক্ত থাকে এবং সেখান থেকে অসহিষ্ণু আব্রাহামিক মতবাদের শিক্ষাদান করা হয়। বাস্তব এটাই যে কমপক্ষে ৫০% ভারতীয় মসজিদের সাথে মাদ্রাসা যুক্ত আছে এবং সেখানে কমপক্ষে ৮-১০ লক্ষ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে।

মাদ্রাসার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়ার পিছনে একটি আন্তর্জাতিক চক্র কাজ করছে। সৌদি আরব একাই প্রতি বছর প্রায় আড়াই কোটি ডলার ভারত, নেপাল আর বাংলাদেশে মাদ্রাসার পিছনে ব্যয় করে। উদ্দেশ্য একটাই- দারুল ইসলামের প্রতিষ্ঠা করার জন্য অধিকাধিক সংখ্যায় জেহাদী তৈরি করা। আর এই জেহাদী তৈরির কারখানা হল মাদ্রাসা। কোনও সরকারই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক এই ইস্যুটিকে গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করছে না। উন্নয়ন অথবা বিকাশ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। বরং অনেকেই ভোট রাজনীতির স্বার্থে এই ভয়ংকর বিপদকে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে। যেখানে পশ্চিমবঙ্গে আছে সর্বমোট ৬ হাজার মাদ্রাসা, সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ১০ হাজার মাদ্রাসাকে নাকি উনি অনুমোদন দেবেন! ২০১৩ সালের শুরুতে ২০ টি ইসলামিক দেশ থেকে প্রায় ২৫,০০০ ওয়াহাবিবাদী ইসলামিক পণ্ডিত ভারতের দেওবন্দে এসেছিলেন। তারা ৮ ভারতীয় রাজ্যে এবং ৭,০০০ মাদ্রাসায় ঘুরেছিলেন। তারা ১২ লাখ মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেওছিলেন। এদের মধ্যে কয়েকজন আবার বেআইনিভাবে কাশ্মীর উপত্যকায় ভ্রমণও করেছিলেন। এখানে নিশ্চয়ই বলার দরকার নেই যে, এই ২৫,০০০ ওয়াহাবিবাদী পণ্ডিতরা ছাত্রছাত্রীদের কী শিক্ষা দিতে এসেছিলেন! তৎকালীন ইউপিও সরকারের প্রশ্রয় ছাড়া কি এটা সম্ভবপর ছিল? বর্তমান কেন্দ্র সরকারও এবিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা নেই। তবে এবিষয়ে অসমের শিক্ষামন্ত্রী শ্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ভূমিকা প্রশংসার দাবী রাখে। উনি একমাত্র রাজনৈতিক নেতা যিনি রাজ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বিধাসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পি এফ আইয়ের গোপন কার্যকলাপ জাতীয় নিরাপত্তায় নিযুক্ত সংস্থাগুলোকে যথেষ্ট চিন্তায় রেখেছে। সি এ এ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে ওই সংস্থার সদস্যদের কার্যকলাপের রিপোর্ট এসেছিলো গোয়েন্দা কর্তাদের হাতে। সূত্রের খবর রাজ্যে বাছাই করা জেলাগুলোতে অর্থাৎ মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং হাওড়া জেলায় ওই সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে স্থানীয় দেশবিরোধী কিছু বিভেদকামীরা হাত মিলিয়েছে। এই ধরনের সংগঠনের রিক্রুটারররা সাধারণত মাদ্রাসা এবং মসজিদ গুলোকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সদস্যদের খুঁজে বেড়ায় এবং সদস্য নিয়োগ করে।

দেশ এবং জাতিকে বাঁচতে হলে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী করতে হবে। প্রয়োজনে সংবিধানের ৩০ ধারা বিলোপ করে সবার জন্য সমান শিক্ষা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে। সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান করছি- তোষণ ছাড়ুন, জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিন যে ক্ষমতায় এলে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে  মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করবেন।