বাঙ্গালী বনাম হিন্দু

নিজের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর আইডেনটিটিকে শক্তিশালী করে অপেক্ষাকৃত বৃহত্তর আইডেনটিটি গুলোর সাথে সমন্বয় রেখে মানবতা তথা সমগ্র সৃষ্টির সেবায় নিয়োজিত থাকাই আমাদের আদর্শ। আমাদের ছোট থেকে বড়- সব আইডেনটিটি গুলোর মধ্যে সম্পর্কের যে কল্পনা, তা কখনোই ‘কম্পার্টমেন্টাল রিলেশনশিপ’ নয়, যেখানে প্রতিটি আইডেনটিটি আলাদা আলাদা কক্ষে আবদ্ধ, একের সাথে অপরের কোনও সম্পর্ক নেই, বরং অনেক ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সংঘাতে পরিপূর্ণ। আমাদের কল্পনায় এই সম্পর্ক হল একটা ‘ইনফাইনাইট স্পাইরাল’-এর মত, যেখানে প্রতিটি আইডেনটিটি অবিচ্ছিন্ন। ব্যক্তি থেকে শুরু করে পরিবারের একজন সদস্য, সমাজের একজন সদস্য হয়ে একজন বিশ্বমানব এবং সবশেষে এই সৃষ্টির অন্যতম একটি উপাদান- আমার এই অসংখ্য আইডেনটিটির মধ্যে কোনও পারস্পরিক সংঘাত নেই, বরং সর্বত্র একটা সমন্বয়ের কল্পনাই আমাদের বৈশিষ্ট্য। তাই আমি বাঙ্গালী হয়েও ভারতীয় এবং হিন্দু হতে পারি অতি সহজেই। হিন্দু হতে হলে আমাকে আমার বাঙ্গালী আইডেনটিটি ছাড়তে হয় না।

এখন প্রশ্ন আসবে, তাহলে মুসলমানদের সাথে এই সমন্বয় কেন হতে পারে না? এর কারণ তারা যে জীবনাদর্শে বিশ্বাসী, তাতে এই সমন্বয়ের অনুমতি শুধুমাত্র তাদের নিজেদের মতাবলম্বীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাদের মতবাদ অনুযায়ী বাদবাকিরা হয় কাফের, নয় মুশরিক, নয় মুনাফেক, নয় মুর্তাদ। আর এদের সাথে সমন্বয় নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং শত্রুতাই একজন মুসলমানের কর্তব্য। অমুসলমানদের হয় ধর্মান্তরিত করতে হবে, না হয় হত্যা করতে হবে, না হয় তাড়িয়ে দিতে হবে, না হয় দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক বানিয়ে রাখতে হবে। এই শত্রুতামূলক জীবনদর্শনে বিশ্বাসীদের সাথে সমন্বয়ের চেষ্টা করা মানে নিজের বিনাশকে আহ্বান করা।

বাংলার মাটিতে বাঙ্গালীর অগ্রাধিকার প্রশ্নাতীত

এই বাংলার মাটিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাকরি, সরকারী সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি সমস্ত ক্ষেত্রে বাঙ্গালীর অগ্রাধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। বাঙ্গালী মানে বাঙ্গালী। বাঙ্গালী মানে ‘বাঙালি’ ভেকধারী আরবীয় জনগণ নয়।

ওবিসি-এ বাতিল করতে হবে, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে, প্রতি সপ্তাহে ধর্মাচরণের নামে রাস্তা বন্ধ করে রাখা সহ্য করা হবে না, জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় পতাকার অবমাননা কঠোর হাতে দমন করতে হবে, এন‌আরসি করে বাংলাদেশী মুসলমানদের তাড়াতে হবে, সিএএ প্রয়োগ করে শরণার্থী হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিতে হবে, সবার জন্য অভিন্ন দেওয়ানী বিধি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষার জন্য উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করতে হবে, সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে মিনি পাকিস্তানে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া বরদাস্ত করা হবে না, হুকিং করে বিদ্যুৎ চুরি করে জনগণের উপরে সেই বিলের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার সিস্টেম বন্ধ করতে হবে, হজ হাউসে গঙ্গাসাগরের তীর্থযাত্রীদের‌ও থাকার সুবিধা দিতে হবে, ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে সহবাসকে ধর্ষণের থেকেও গর্হিত অপরাধ বলে গণ্য করতে হবে এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, ইমামভাতা ও পুরোহিত ভাতা-দুটোই বন্ধ করতে হবে। সমস্ত অধিকৃত দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করে সেগলোকে সমাজ জাগরণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

বাঙ্গালীর উপরে মা সরস্বতীর বরদান আছে। বাঙ্গালীর মেধাকে আমরা মর্যাদা দিয়ে বাঙ্গালীর উত্থানের কাজে ব্যবহার করতে পারি নি। বাঙ্গালী সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকায় এবং পদমর্যাদায় সুপ্রতিষ্ঠিত আছে কিন্তু এখানে এমন একটা সিস্টেম তৈরি করে রাখা হয়েছে যেখানে ‘ন্যুইস্যান্স ভ্যালু’-র সম্মান আছে কিন্তু মেধাশক্তির মূল্যায়ন নেই। এই সিস্টেম ভাঙতে হবে, একটা নতুন ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি’-র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এক্ষেত্রেও বাঙ্গালীকেই বাকি ভারতের পথপ্রদর্শক হতে হবে। একবার পরিবেশ তৈরি হলে বিনিয়োগ আসতে অসুবিধা হবে না।

শিক্ষা ব্যবস্থার বাঙ্গালীকরণ করতে হবে। অন্য ভাষার শিক্ষা এবং চর্চা স্বাগত। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বাংলাভাষার বিদেশিকরণ করার চেষ্টা আমাদের অস্তিত্বের জন্য বড় বিপজ্জনক। তাই ভারতীয় বাংলাকে বাংলাদেশী বাংলা থেকে আলাদা করতে হবে এবং ভারতীয় বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দিতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকবে রাজা শশাঙ্ক, প্রতাপাদিত্য, গণেশদের বীরত্বের ইতিহাস, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-রাজা রামমোহন-ঋষি অরবিন্দ-স্বামী বিবেকানন্দ-ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র-কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ- কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রের সাংস্কৃতিক অবদানের ইতিহাস, বাঘাযতীন-ক্ষুদিরাম-বিনয়-বাদল-দীনেশ-মাস্টারদার মত অসংখ্য বীর বাঙ্গালীর স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাস, আচার্য জগদীশ চন্দ্র-মেঘনাদ সাহা-সত্যেন বসু-আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্রের মত মণীষিদের ইতিহাস। এই তালিকা লিখে শেষ করা যাবে না কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এঁদের সম্পর্কে চর্চার পরিসর ক্রমশঃ কমছে। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি থাকবে কারিগরি শিক্ষা, সৈনিক শিক্ষা, প্রশাসনিক শিক্ষা ইত্যাদি। শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে আর একটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হ‌ওয়া উচিৎ। সেটা হল ভারতীয় দর্শন এবং পৃথিবীর অন্যান্য প্রমুখ মতবাদগুলির তুলনামূলক পর্যালোচনা। এই ফেক সেকুলারিজমকে আস্তাকুঁড়ে ফেলতে হলে এই বিষয়টি আবশ্যিক হতে হবে। বাঙ্গালী যুবকদের পুলিশ এবং সেনাবাহিনীতে যোগদান করার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘বঙ্গ রেজিমেন্ট’ গঠন করতে হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে এরাজ্যে অবাঙ্গালীদের স্টেটাস কী হবে! অবাঙালি ভারতীয়রা চাইলে এরাজ্যে সসম্মানে থাকবেন। মনে রাখতে হবে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং ‘বাঙ্গালী’ বৃহত্তর হিন্দু সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। অবাঙ্গালী ভারতীয়রা আমাদের বৃহত্তর পরিবারের (Extended family) সম্মানীয় সদস্য। এরাজ্যে তারা ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করবেন, চাকরি করবেন, সমস্ত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করবেন – এতে কার‌ও কোনও আপত্তি থাকা উচিৎ নয়। কিন্তু তাদের কাছে আবেদন, বাংলার মাটিতে বাঙ্গালীদের অগ্রাধিকারের যৌক্তিকতাকে আপনারা সহজভাবে স্বীকার করে নেবেন এবং বৃহত্তর ভারতীয় পরিবারের সম্মানীয় সদস্য হিসেবে সকলের সাথে মিলেমিশে থাকবেন। আপনাদের নিরাপত্তা এবং সম্মান রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। রাজনৈতিক ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা থাকলে জনসেবা করবেন, মানুষের পাশে দাঁড়াবেন, আমরা আপনাকে আমাদের প্রতিনিধি হিসেবে মেনে নিতে দ্বিধা করবো না। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য ‘ঘেটো’ তৈরি করার চেষ্টা করবেন না। এতে পারস্পরিক সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হবে, অশান্তি হবে।

এগুলো একান্তভাবে আমার ব্যক্তিগত মতামত, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়।

মুসলমান ভোট ছাড়া ক্ষমতায় আসা যাবে না- এই বিশ্বাস‌ হল যুদ্ধের আগেই আগ্রাসী মুসলিম মৌলবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সমান

মুসলমান ভোট ছাড়া ক্ষমতায় আসা যাবে না- এই বিশ্বাস‌ হল যুদ্ধের আগেই আগ্রাসী মুসলিম মৌলবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করার সমান। ওরাই ক্ষমতার নির্ণায়ক শক্তি- এই মিথ্যা, এই মিথ‌টাই হল মুসলিম তোষণের ভিত্তি। এই বিশ্বাস থেকেই মুসলিম তোষণ শুরু হয়।

এবার ২০১৬র বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে তুলনামূলক বিচার করে দেখুন যে এই তৃণমূল সরকার গঠনে রাজ্যের তিনটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুরের কন্ট্রিবিউশন আদৌ কতটা এবং পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার মত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলোর কন্ট্রিবিউশন কতটা!

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আগামী ২০২১ এর নির্বাচনে মূসলিম এবং হিন্দু ভোটের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তৃণমূল আর বিজেপি কী ভাবছে? ‘মুসলিম ভোট ছাড়া ক্ষমতায় আসা যায় না’- এই মিথকে সত্য ধরেই কি সবাই এগিয়ে যাবে? নাকি ৭০% হিন্দু ভোট তার উপযুক্ত মূল্য পাবে। যে ই ক্ষমতায় আসুক, এই মিথকে ভাঙতে না পারলে এই নির্বাচনের পরে হিন্দু ভোটের কি কোনও মূল্য থাকবে? হিন্দু ভোট মূল্যহীন হয়ে পড়লে এই রাজ্যে আপনার আমার ভবিষ্যৎ কী হবে?

আমি জানি এই প্রশ্নগুলো অনেককেই অস্বস্তিতে ফেলে দেবে, বিশেষতঃ নির্বাচনের আগে আগে। তবুও সব দলের হিন্দু কর্মী-সমর্থকদের কাছে অনুরোধ, নিজের নিজের পার্টির নেতাদের সামনে এই প্রশ্নগুলো রেখে দেখুন আদৌ তারা আপনাদের এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সৌজন্যটুকুও দেখায় কি না। তারপরে প্রশ্ন আসবে এইসব প্রশ্নের উত্তর দলের নির্বাচনী ইস্তেহারে স্থান পায় কি না!

২০১৪-র এই ঘটনা আসলে হিন্দুদের প্রতিরোধ ভেঙে ফেলার চক্রান্ত

২০শে জানুয়ারি, ২০১৪। বীরভূম জেলার লাভপুর থানার অন্তর্গত আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম সুবলপুর। একটি মুসলমান ছেলেকে গ্রামবাসীরা আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে এক আদিবাসী যুবতীর ঘরে। ছেলে এবং মেয়েটির বিচার হয় সাঁওতাল সমাজের রীতি ও পরম্পরা অনুযায়ী। ছেলের বাড়ির লোককে ডেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং যাতে ভবিষ্যতে এই ঘটনা গ্রামের মধ্যে না ঘটে তার জন্য আদিবাসী যুবতীকে ও তার মা’কে ডেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। ঠিক দু’দিন পরে, অর্থাৎ ২২শে জানুয়ারি ওই আদিবাসী মেয়েটি নিজে সাইকেল চালিয়ে লাভপুর থানায় যায় এবং অভিযোগ করে যে তাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। সুবলপুর গ্রামে পুলিশ এসে এই অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি করে এবং গ্রামবাসীদের থানায় গিয়ে বিষয়টা মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলে ফিরে যায়। এই অভিযোগের খবর শোনার পরে সুবলপুর থেকে ট্রাক্টরে চেপে গ্রামের মোড়লের নেতৃত্বে কয়েকজন থানায় যায়। থানায় গিয়ে তারা দেখে যে এলাকার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত। একদা বামফ্রন্ট, তারপরে তৃণমূল এবং অবশেষে বর্তমানে বিজেপির নেতা এই মনিরুল ইসলামের অঙ্গুলি হেলনে পুলিশ ১৩ জন গ্রামবাসীকে তথাকথিত গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করে।

আশ্চর্যজনক ভাবে প্রায় সাথে সাথেই বিশ্বের তাবড় মিডিয়া পৌঁছে যায় এই প্রত্যন্ত গ্রামে। শিরোনামে উঠে আসে এই সুবলপুর। সমস্ত মিডিয়া আদিবাসী সমাজের পরম্পরাগত বিচার ব্যবস্থাকে এই তথাকথিত গণধর্ষণের জন্য দায়ী করে। এই পরম্পরাগত বিচার ব্যবস্থার কারণে একদিকে মিশনারিদের অসুবিধা হচ্ছিল ধর্মান্তরকরণে, অন্যদিকে ইটভাটা কিংবা পাথর খাদানে দিনমজুরী করা আদিবাসী মহিলাদের যৌনশোষণে সমস্যা হচ্ছিল মালিক, ম্যানেজার কিংবা ঠিকাদারদের- কাকতালীয় ভাবে যাদের অধিকাংশই মুসলমান। এই ঘটনার আগে পাঁচামির খাদান এলাকায় একজন আদিবাসী মহিলার সাথে আপত্তিজনক অবস্থায় ধৃত একজন মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু হয় জনরোষে। প্রতিক্রিয়ায় প্রায় ১০০ আদিবাসী ঘর পুড়িয়ে দেয় মুসলিম দুষ্কৃতীরা। হাতে অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার আদিবাসী জনতা। প্রমাদ গণে প্রশাসন এবং এলাকা ছেড়ে চলে যায় মুসলমানরা। আদিবাসী সমাজের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার জন্যই হয়তো সুবলপুরে এই নাটকের স্ক্রিপ্ট লিখেছিল মনিরুলরা।

সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে দোষীদের কঠোর শাস্তি প্রদানের নির্দেশ দেয় এবং বোলপুর আদালত (অনেকের মতে গণধর্ষণের যথেষ্ট প্রমাণ হাতে পাওয়ার আগেই) অভিযুক্তদের ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের শাস্তি ঘোষণা করে।অভিযুক্তরা যাতে ন্যায়বিচার পায়, সেই চেষ্টার সাথে সাথে আমরা অভিযুক্তদের অসহায় পরিবারগুলোর পাশে তখন থেকেই যথাসম্ভব দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আজ সেই তাগিদেই গিয়েছিলাম সুবলপুরে। গ্রামবাসীদের সাথে কুশল বিনিময়, একসাথে মধ্যাহ্নভোজনের পাশাপাশি দুর্গাপুজার প্রাক্কালে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যদের হাতে নববস্ত্র তুলে দেওয়ার ক্ষুদ্র প্রয়াসের মাধ্যমেই কাটলো সারাদিন। এরা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আমরা এদের সাথে আছি, থাকবো।

আজকের দিনে বর্ণব্যবস্থা আউটডেটেড

আজকে স্পষ্ট করে বলার সময় এবং সুযোগ দুটোই এসেছে। আমার আজকের এই পোস্ট হয়তো অনেককে ব্যথিত করতে পারে। তবে নীতি এবং বিশ্বাসের সাথে আপোষ করা যাবে না। কোনও রকমের ভন্ডামিকেও প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। তাতে হিন্দু সংহতি সংগঠনের কলেবর যদি ছোট হয়ে যায় তাতেও কিছু যায় আসে না।হিন্দু সমাজকে ভাঙার একটা চক্রান্ত চলছে দীর্ঘদিন ধরে। যারা ভাঙার চেষ্টা করছে তারা আজ কোনঠাসা, তাই তাদের প্রয়াসটাও মরিয়া। বিভিন্ন ধরণের ন্যারেটিভ মাঝে মাঝেই ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে সূক্ষ্মভাবে। সেগুলো হিন্দু অ্যাক্টিভিস্টদের‌ই বিভ্রান্ত করে দিচ্ছে বারবার। এই রকম কিছু কিছু বিষয় ইগনোর করা গেলেও কয়েকটা বিষয়ে সংগঠনের অবস্থান স্পষ্টভাবে অফিসিয়ালি ঘোষণা করা দরকার।প্রথমত, বর্ণব্যবস্থা সম্পর্কে হিন্দু সংহতির স্পষ্ট মত হল- আজকের দিনে এই বর্ণব্যবস্থা আউটডেটেড। আমরা বর্ণব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করি। মানামানি তো দূরের কথা, আজকের দিনে এই বর্ণব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করাটা শুধু সময় নষ্ট করাই নয়, শত্রুদের ফাঁদে পা দিয়ে নিজের দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাঁচশো বছর আগে কিংবা পাঁচ হাজার বছর আগে কত সুন্দর এবং সুব্যবস্থিত ছিল আমাদের সমাজ- তার দোহাই দিয়ে আজকের দিনে বর্ণব্যবস্থাকে জাস্টিফাই করার কোনও চেষ্টাই আমরা সমর্থন করবো না। যারা আজকের দিনে বর্ণব্যবস্থাকে সাথে নিয়ে চলতে চান, তাদের হিন্দু সংহতির সঙ্গ ছাড়তে হবে। বর্ণব্যবস্থার সুফল এবং কুফল- দুটো নিয়ে আলোচনা করাই সময়ের অপব্যয় কারণ আজ এই ব্যবস্থাটাই সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।দ্বিতীয়ত বিষয় হল পুরুষবাদ-নারীবাদ। অতীতে ভারতবর্ষে নারীদের সম্মান ছিল কি ছিল না, কিংবা সনাতন ভারতীয় দর্শনে নারীকে কোন চোখে দেখা হয়েছে, কিংবা হিন্দু দর্শনে নারী-পুরুষ সম্পর্ক এবং স্টেটাস ঠিক কি- এই সব আলোচনাও আজ অপ্রাসঙ্গিক। আমাদের সংস্কৃতি যুগোপযোগী বিবর্তনকে শুধু টলারেট করে না, এটাকে অপরিহার্য বলে মনে করে (না করলে আমাদের সেই সংস্কৃতিকে অস্বীকার করেই এগিয়ে যেতে হত)। আজ প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কথা বাদ দিলে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের পার্থক্য কোথায়! সমস্ত কাজে নারী আর পুরুষ আজকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। পুরুষ বাইরের কাজ করবে আর নারী ঘর সামলাবে এই ব্যবস্থা আজকে আউটডেটেড। পুরো বিষয়টাই আজ পুরুষ-নারীর পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং কেপাবিলিটির উপরে নির্ভরশীল। নারী এবং পুরুষ একে অপরের পরিপূরক- এই সত্যটা আজকেও যারা উপলব্ধি করতে পারে না, তাদের থেকে বড় মূর্খ (ভণ্ড কিংবা rogue শব্দগুলো বোধহয় বেশি উপযুক্ত হতো) আর কে হতে পারে? তাই দেশ ও সমাজকে যদি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে আমাদের এই নারীবাদ-পুরুষবাদের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে, নারী-পুরুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানের সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। এখন হবে বলে ছেড়ে দিলে হবে না। সমাজে না হোক, আমাদের সংগঠনের সাথে যারা থাকবেন তাদের জন্য এটা বাধ্যতামূলক। হিন্দু সংহতিতে নারীবিদ্বেষী এবং পুরুষবিদ্বেষী- উভয়েরই কোনও স্থান নেই। সমাজে নারী এবং পুরুষের সমান উপযোগিতা, তাই সমান স্টেটাস- এটা যারা মানেন এবং তদ্রূপ আচরণ করেন, তারাই আমাদের সঙ্গে থাকুন।আমি জানি, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অনেক ধরণের যুক্তি-তত্ত্ব-তর্ক এখানে আসবে। কিন্তু আমি এটা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না- এটা একটা সাংগঠনিক বার্তা। যারা একমত নন, তারা আসতে পারেন। নমস্কার। আর যদি এই সংগঠনের মধ্যে সবাই এর ভিন্নমত পোষণ করেন, তাহলে আমি নিজে এই সংগঠন ছেড়ে দেবো। আমি যেকোনো সময়ে শুরু থেকে শুরু করতে প্রস্তুত।

‘জয় বাংলা’ মানে ‘ছাতুল বাংলা’

“নবীজির ‘ছাতুল মক্কা’ আর ‘#জয়_বাংলা’ একই” – বললেন বাংলাদেশের নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেছেন, “মহানবী হযরত মুহম্মদ (স.) মক্কা বিজয়ের পর ‘#ছাতুল_মক্কা’ বা জয় মক্কা বলেছেন। ভাষাগত পার্থক্য থাকলেও ‘ছাতুল মক্কা’ ও ‘জয় বাংলা’ একই।” একটা পত্রিকায় প্রকাশিত এই কথাগুলো পড়ে চমকে উঠলাম। আজ পশ্চিমবঙ্গের মাটিতেও স্লোগান উঠছে- জয় বাংলা বুকে ধরো, জয় বাংলা কায়েম করো। ‘বুকে ধরো’ তো বুঝলাম! ‘কায়েম করো’ মানে? যেভাবে ‘ছাতুল মক্কা’ কায়েম করা হয়েছিল, সেইভাবে ‘ছাতুল বাংলা’ কায়েম করার চেষ্টা চলছে নাকি? এদের ‘জয় বাংলা’ মানে কি বাংলার জয়, নাকি বাংলার উপরে বাংলাদেশের বিজয়? এদের ‘জয় বাংলা’ কায়েম করা মানে কি পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে #গ্রেটার_বাংলাদেশ কায়েম করা?আপনাদের মনে করিয়ে দিই, জেএমবি (জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) তার নাম পরিবর্তন করে শুধু জেএম (জামাতুল মুজাহিদিন) করেছে। অর্থাৎ সে যে আর বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না- নাম পরিবর্তনই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত। এখন তার ঘোষিত কর্মক্ষেত্র হল গ্রেটার বাংলাদেশ’ যার মধ্যে এই বাঙালি অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গ‌ই প্রধান। ঠিক এভাবেই ISIS তার নাম পরিবর্তন করে IS হয়েছিল ইরাক ও সিরিয়ার গন্ডি ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে ইসলামিক স্টেট তৈরি করার উদ্দেশ্যে।আস্তে আস্তে পর্দা উঠছে। আরও উঠবে। ‘জয় বাংলা’ মানে যে ‘ছাতুল বাংলা’ সেটা আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। চোখ আর কান খোলা রাখুন।

আমরা ভাবছি ইভিএম মেশিনের বোতাম টিপেই বোধহয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে

বীরভূমের সিউড়ি, জয়দেব হয়ে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর। সেখান থেকে পুরুলিয়া হয়ে অযোধ্যা পাহাড়ের কয়েকটি বনবাসী অধ্যুষিত গ্রাম। ফেরার পথে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর এবং ঘাটাল, হাওড়া জেলার আমতা। লম্বা সাংগঠনিক সফর শেষে ফের কলকাতায়।সাংগঠনিক দৃষ্টিতে পুরুলিয়া নতুন জায়গা। খৃষ্টানদের ধর্মান্তরকরণ এবং বাম-বামাতিদের কালচারাল মার্ক্সিজমের প্রয়োগশালা। চলছে হুদুড় দুর্গা, অর্থাৎ মহিষাসুরের বংশধর বলে বনবাসী ভাইবোনদের মগজ ধোলাই করে তাদের মূল সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র। আর্য-দ্রাবিড় তত্ত্বের বস্তাপচা ন্যারেটিভ চালানো হচ্ছে জোরকদমে।কাজ অনেক। আমরা ভাবছি ইভিএম মেশিনের বোতাম টিপেই বোধহয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিষয়টা অতটা সহজ নয় মোটেই।

ভন্ডামি ছেড়ে সাহস অবলম্বন করুন এবং অস্তিত্বের এই সংকটে বুক চিতিয়ে রুখে দাঁড়ান

আমি বহুবার বলেছি, তাদের মধ্যে কয়েকজন পেটেন্ট টেররিস্ট, নগণ্য সংখ্যক কিছু মানবিক চেতনা সম্পন্ন লোক আছে যারা ওদের সমাজের অন্তর্ভুক্ত হলেও ওদের সমাজের চোখে ‘মুনাফেক’ এবং তারা ঘৃণিত এবং উপহাসের পাত্র। এদের বাদ দিলে বাকিরা সবাই লেটেন্ট টেররিস্ট। কখন কে জঙ্গিযোগে ধরা পড়ে আপনাকে অবাক করবে আপনি আন্দাজ‌ই করতে পারবেন না। কারণ টেররিজম তাদের বিলিফ সিস্টেমের ভিত্তি। অবিশ্বাসীদের প্রতি অন্তহীন ঘৃণা, বিদ্বেষ, জিঘাংসা তাদের কৌমি চেতনার সার। পৃথিবীর প্রতিটি ধূলিকণার উপরে রাজনৈতিক প্রভুত্ব কায়েম করা তাদের ধর্মাচরণের প্রেরণা।

সম্প্রতি রাজ্যে আলকায়েদা, আইএস, জেএমের সাথে যুক্ত বহু লোক ধরা পড়েছে, আগামী দিনেও পড়বে। পাড়ার লোকেরা বারবার অবাক হবে, আমরা ততোধিক অবাক হবো। তারপরে এই আশায় বুক বেঁধে বসে থাকবো যে জঙ্গিপুরের পরে নিশ্চ‌ই আর কোথাও কোনও টেররিস্ট ধরা পড়বে না!! যারা বাকি থাকলো তারা সকলেই দেশভক্ত নাগরিক। এদের দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকানোই হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা। কেউ এদের জন্য ‘শ্রী’ যুক্ত প্রকল্প শুরু করবে, কেউ আবার ‘এক হাতে হেটবুক অন্যহাতে ল্যাপটপ’ তুলে দিয়ে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’-এর তত্ত্ব তুলে ধরবে। আর আমরা ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মত হয় ‘মা মাটি মানুষ জিন্দাবাদ’ নয়তো ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তুলে রাস্তা কাঁপাবো।

কোদালকে কোদাল বলে স্বীকার করার সাহস না দেখাতে পারলে বারবার এরকমভাবে অবাক হতে হবে। খাগড়াগড় দেখে অবাক হবেন, মেয়ের সৌম্য-ভদ্র বয়ফ্রেন্ডের জঙ্গিযোগ দেখে যারপরনায় অবাক হবেন, শেষে উদ্বাস্তু হয়ে পালাতে পালাতে চরমবিস্ময়ে অভিভূত হবেন- আহা! সেকুলারিজমের কী মহিমা!! কী অসাধারণ মানবিক চেতনা!! তাড়িয়ে দিলেও খুন তো করেনি! মেয়েটাকে জোর করে রেখে দিলেও গণধর্ষণ করে খাসী ঝোলানোর আংটায় উল্টো করে ঝুলিয়ে তো রাখেনি! জমিজমা টাকাকড়ি কেড়ে নিলেও নৌকা করে সেফজোনে পৌঁছে তো দিয়েছে!! এই সম্প্রীতির মাটি, এই ধর্মনিরপেক্ষ জল, এই উদার বাতাস- সত্যিই তুমি ধন্য !!এখনও সময় আছে। সর্পে রজ্জুভ্রম বন্ধ করুন। ভন্ডামি ছেড়ে সাহস অবলম্বন করুন। অস্তিত্বের এই সংকটে বুক চিতিয়ে রুখে দাঁড়ান। পশ্চিমবঙ্গকে গ্রেটার বাংলাদেশে পরিণত হ‌ওয়া থেকে বাঁচানোর লড়াইয়ে যোগদান করুন।

প্রসঙ্গ গোর্খাল্যান্ড

সাংসদ রাজু বিস্তা সততার সাথেই তাঁর গোর্খাল্যান্ডের ডিমান্ড রেখেছেন। দিনের আলোর মত পরিষ্কার তাঁর দাবি- দার্জিলিং, তরাই আর ডুয়ার্স নিয়ে গোর্খাল্যান্ডের ডিমান্ড এলাকার মানুষের পুরোনো এবং সাংবিধানিক ডিমান্ড। তাদের এই দাবি পুরণ করার জন্য স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান করতে হবে। এই প্রসঙ্গে ওনার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতি উল্লেখযোগ্য। এখানে বিভ্রান্তির কোনও অবকাশ নেই। প্রত্যেক কমিউনিটির নিজেদের আইডেন্টিটি সুরক্ষিত এবং প্রতিষ্ঠিত রাখার অধিকার আছে। এটা যেমন বাঙ্গালীদের আছে, তেমনই গোর্খাদের‌ও আছে। সেই অধিকারকে সম্মান জানিয়েই আবার বলছি, রাজ্যভাগ বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। রাজ্যভাগ জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী। তাই পৃথক গোর্খাল্যান্ডের বিকল্প কোনও সমাধানসূত্র খোঁজ করা দরকার।

বাঙ্গালী হিন্দুর যুগধর্ম

ধর্মের ভিত্তিতে বাংলা ভাগ হ‌ওয়ার পরে এই পশ্চিমবঙ্গ হল বাঙ্গালী হিন্দুর Natural Homeland. অর্থাৎ এই মাটির মালিক হল হিন্দু বাঙ্গালীরা। স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমবঙ্গের মাটির উপরে অধিকার সর্বপ্রথমে হিন্দু বাঙ্গালীর। পশ্চিমবঙ্গের যাবতীয় সম্পদের উপরে অধিকার সর্বপ্রথমে হিন্দু বাঙ্গালীরপশ্চিমবঙ্গের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ক্ষমতার স্বাভাবিক উত্তরাধিকার হিন্দু বাঙ্গালীর। শক্তি-সাহস-সক্রিয়তার বলে অধিকার আদায় করে নিতে হয়, অধিকার রক্ষা করতে হয়। পশ্চিমবঙ্গের মাটিকে রক্ষা করা, সম্পদকে রক্ষা করার সাথে সাথে আর‌ও বেশী সম্পদ সৃষ্টি করা, ক্ষমতার সাথে সাথে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত উত্তরদায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা এবং যারা আমাদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইবে তাদের ধ্বংস করাই বর্তমানে বাঙ্গালী হিন্দুর যুগধর্ম।