বাঙালির থিম পূজো

বাঙালির উর্বর মস্তিষ্কের আবিষ্কারে দুর্গাপূজা হয়েছে ‘থিম পূজো’। যে সমস্ত থিম দেখতে পাচ্ছি, তার বেশিরভাগ‌ই সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দুর্গাপূজার প্রেক্ষাপটের সাথে সম্পর্কবিহীন বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপিত করে গর্বের সাথে বলা হচ্ছে – এবার আমাদের থিমপূজা হচ্ছে। এই থিম আগে স্থান পেতো মন্ডপের বাইরে, বিশেষত আলোকসজ্জায়। এখন মূল মন্ডপ এমনকি দুর্গামূর্তিও এই থিমের কবলে। আমরাও দেখতে যাচ্ছি, নতুন জামাকাপড় পরে, রাত জেগে!
থিমপূজার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল বার্তাটা আমরা ধরতে পারছি না। সেটা হল – ধীরে ধীরে দুর্গাপূজার ধর্মীয় আঙ্গিককে গুরুত্বহীন করা হচ্ছে, বাঙালিকে ধর্মহীন করা হচ্ছে। দুর্গাপূজা থেকে দুর্গাপূজা বিহীন থিমপূজার একটা ট্রানজিটে আমরা অবস্থান করছি। এরপর হয়তো খালি প্রতীক হিসেবে ঘটপূজা হবে, মন্ডপসজ্জা এবং মূর্তিতে থিমের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ গোছের কিছু সুচিন্তিত ন্যারেটিভ। তারপরের ধাপে শুধুই থিম, পূজা বাদ। প্রতিমা নিরঞ্জন উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা নয়, হবে কার্নিভাল, পাশ্চাত্যের অনুকরণে বড় বড় ছাতা থাকবে, ট্যাবলো থাকবে, থাকবে চোখ ধাঁধানো বিভিন্ন উপকরণ। মা দুর্গার প্রতিমা থাকবে না সেখানে। আগেই চুপেচাপে ঘট বিসর্জন হয়ে যাবে সবার অলক্ষ্যে! আমরা ধন্য হবো – আহা কী দেখিলাম, জন্ম জন্মান্তরেও ভুলিবো না!
দিন আসছে, হয়তো বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকবে অন্নপ্রাসনের থিম, আর অন্নপ্রাসনের অনুষ্ঠানে শ্রাদ্ধের থিম। বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা দুহাত তুলে বলবে, সাধু সাধু! কী ব্যতিক্রমী প্রয়াস! হোয়াট বেঙ্গল থিংক্স টুডে, ইন্ডিয়া থিংক্স টুমরো!
আজকে গোটা দুনিয়ার বুঝতে পারছে, আমরা, বাঙালিরা যা করে চলেছি তা উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় নয়, এটা একটা দেউলিয়া মানসিকতা, চূড়ান্ত অগভীর চিন্তাশক্তির প্রতিফলন।
বাঙালি তো বুদ্ধিবৃত্তিতে এরকম দীনহীন কখন‌ও ছিল না!!

মেরুদণ্ডহীনতায় সত্যিই কি লজ্জিত?

আজকের দিন, ২২শে নভেম্বর। সালটা ২০০৭। কলকাতার বুকে লুঙ্গি-টুপির তাণ্ডব চলছে। তসলিমাকে তাড়াতে হবে এই রাজ্য থেকে। কেন? উনি একটা ব‌ই লিখেছেন। নাম ‘লজ্জা’। সেই ব‌ইয়ে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের একটা চিত্র তুলে ধরেছেন সাহসী তসলিমা। বাংলাদেশে প্রাণ সংশয়। তাই আশ্রয় নিয়েছেন প্রোগ্রেসিভ, লিবেরাল বাঙালির বাসস্থান এই কলকাতায়। হ্যাঁ, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, কবি সৃজাত, শীর্ষেন্দু, গরুখেকো সুবোধ-বিকাশ কবীর সুমনদের কলকাতায়।
লুঙ্গি-টুপির তাণ্ডব চলছে তসলিমাকে তাড়াতে হবে। দুদিন ধরে বিনা বাধায়। নেতৃত্বে জনপ্রতিনিধি ইদ্রিস আলী। না, এর প্রতিবাদে একটাও মিছিল, যার সামনের সারিতে অপর্ণা সেন, সুবোধ বিকাশ – এই কলকাতার বুকে হয় নি। একটাও কবিতা সৃজাতদের কলম থেকে বেরোয় নি। দুদিন ধরে চলল এই তাণ্ডব। অবশেষে সকলের অসহায় আত্মসমর্পণ মুসলিম মৌলবাদের সামনে। তাড়ানো হল তসলিমাকে।
বুদ্ধিজীবীদের এই নীরবতা কি কলকাতার বাঙালির লজ্জা নয়? মরীচঝাঁপির ক্ষেত্রে আনকম্প্রোমাইজিং অবস্থান নেওয়া প্রবল প্রতাপশালী লাল সরকারের মুসলিম মৌলবাদীদের সামনে এই অসহায় আত্মসমর্পণ কি বামপন্থীদের লজ্জা নয়? 
না, এগুলো ওদের লজ্জিত করে না। কারণ এই পক্ষপাতমূলক আচরণটাই ওদের নীতি। কারণ এরা ওদের পক্ষে। মুক্তচিন্তা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা – এইসব তত্ত্বের অবতারণা তখনই হবে যখন আপনি এই মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন। এই সব তত্ত্ব বামৈস্লামিক দুষ্কৃতীদের প্রতিক্রিয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অন্যতম অস্ত্র। এই সব‌ই আপনাকে আমাকে থামানোর জন্য।
এটা আসলে আমাদের‌ই লজ্জা। কারণ আমরা এই বামৈস্লামিক ষড়যন্ত্রের হাত থেকে তসলিমাকে বাঁচাতে পারিনি। কারণ আমরা আজও এই ভারতবিরোধী, হিন্দুবিরোধী বামৈস্লামিক শক্তিকে ভারতের মাটি থেকে শিকড়সমেত উপড়ে ফেলতে পারিনি। তাই যতদিন বামৈস্লামিক দুষ্কৃতীদের শিকার তসলিমাদের নিরাপত্তা দিতে না পারবেন, এদের ধ্বংস করে প্রকৃত মুক্তচিন্তার প্রতিষ্ঠা না করতে পারবেন, আসুন লজ্জিত হ‌ই।

হিন্দু ভোট যত কনসলিডেট হবে, হিন্দু তোষণের প্রতিযোগিতা তত বাড়বে

যেদিন রামমন্দির ইস্যু প্রথমবার সকলের সামনে এসেছিলো, সেই দিনটাতেই বোধহয় ভারতের রাজনীতির হিন্দুকরণের সূত্রপাত হয়েছিল বলে ধরা যায়। হিন্দুদের কোনও দাবি নিয়ে যে রাজনীতি হতে পারে, এর আগে এটা অবাস্তব বলে মনে হত সবার। কিন্তু ভারতের রাজনীতিকে ধর্মের ভিত্তিতে দ্বিখন্ডিত করে দিল এই ইস্যু। ভারতের রাজনীতিতে আগে ছিল শুধুই মুসলিম পক্ষ। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের পাখির চোখ ছিল মুসলিম ভোট। রামজন্মভূমি আন্দোলন থেকে শুরু হল হিন্দুর রাজনৈতিক কনসলিডেশন। হিন্দুরা এবার একটা পক্ষ হল। তাদের একটা আত্মবিশ্বাস জন্মালো – যে হিন্দুরা বাবরি মসজিদকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে, তাদের অসাধ্য আর কী থাকতে পারে! এই আত্মবিশ্বাস থেকেই তৈরি হল হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক আর এই ভোটব্যাঙ্ককে পাখির চোখ করল বিজেপি। বিজেপির উত্থান এই হিন্দু ভোটের উপরে ভিত্তি করেই। রামজন্মভূমি আন্দোলন‌ই বিজেপিকে ভারতের রাজনীতিতে এসকেপ্ ভেলসিটির ইন্ধন যোগালো।
যদিও ভারতের রাজনীতির গতি প্রকৃতি আগেও হিন্দুরাই নির্ধারণ করতো, কিন্তু এই বোধ হিন্দুদের এর আগে ছিল না। একটা মিথ্যা ন্যারেটিভ সুন্দর ভাবে পরিবেশন করা হত – মুসলিম ব্লকভোট‌ই ভারতের রাজনীতির ভাগ্যনিয়ন্তা। আর এই মিথ্যাকে ছন্নছাড়া হিন্দুরা বিশ্বাস করতো মনেপ্রাণে। যদিও পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্বের অধিকাংশ এখনও এই বিশ্বাস নিয়েই রাজনীতি করে যে মুসলিম ভোট না পেলে এরাজ্যে ক্ষমতা দখল করা সম্ভব নয়। তাদের এই ধারণার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। 
বিশ্ববাসীর ভুল ভাঙলো ২০১৪ সালের সেই দিনটাতে, যেদিন গুজরাটের গোধরায় হিন্দু হত্যার দৃষ্টান্তমূলক প্রতিশোধের নায়করূপে অভিযুক্ত নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হলেন। এই জয় বাস্তবে বিজেপির জয় ছিল না, এই জয় ছিল দীর্ঘদিনের পরাজয়ের গ্লানি বুকে চেপে রাখা, নিজের দেশে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের ব্যবহার পেয় লাঞ্ছিত, অপমানিত হতে থাকা হিন্দুদের বহু আকাঙ্খিত জয়। হিন্দুরা মোদিজীর অভিষেক চেয়েছিল, তাই মোদিজী সিংহাসনে বসেছিলেন। তাই আমরা দেখলাম উন্নয়নের জোয়ার ব‌ইয়ে দেওয়া স্বপ্নের নায়ক উদারচতা বাজপেয়ীজীর ফিলগুডের সরকার পরাজিত হলেও ২০১৪-তে ব্যাপক জনসমর্থন পেলো মুসলমানের রক্তে হোলি খেলার তকমাধারী নরেন্দ্র মোদির সরকার। 
২০১৪ র নির্বাচনের ফলাফল হিন্দুদের আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল এবং মোদিজীও এই পাল্স বুঝে নিয়েছিলেন সঠিকভাবেই। তাই পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, তিন তালাক নিষেধ, বারাণসীর তীরে গঙ্গারতি, সৌদি আরবে মন্দির নির্মাণ, নাগরিকত্ব বিল লোকসভায় পাশ করানো মোদি সরকার ২০১৯-এ হল আরও অনেক বেশি শক্তিশালী। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি এই সরকারকে। নিয়ে চলেছে একের পর এক কঠোর এবং সাহসী সিদ্ধান্ত – ৩৭০ ধারার অবলুপ্তি, রামমন্দির তৈরির পথ প্রশস্ত করার পথ ধরে আবার আসছে নাগরিকত্ব বিল এবং তারপরে এন‌আরসি। দ্বর্থ্যহীন ভাষায় সরকারের সাহসী ঘোষণা – বহিরাগত হিন্দুরা শরণার্থী আর মুসলমানরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী! দেশটা হিন্দুরাষ্ট্র হতে আর বাকি র‌ইলো কী!
সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলো হিন্দুদের প্রতি ন্যায় বিচার তো অবশ্যই, কিন্তু যদি রাজনীতির পরিভাষায় কেউ একে ‘হিন্দু তোষণ’ বলে, সে কি বিরাট ভুল করে ফেলবে? কেউ যদি বলে বিজেপির এই ‘হিন্দু তোষণ’ বিরোধী দলগুলোর মুসলিম তোষণের পাল্টা রাজনৈতিক চাল, সেও কি খুব ভুল বলবে? দেশের ৮০% ভোটারকে কনফিডেন্সে নিয়ে রাজনীতি করাটাই তো স্বাভাবিক। তবে এটা এতদিন কোনও পার্টি করেনি কেন? কারণ এতদিন হিন্দুরা তাদের ভোটের মূল্য এবং ক্ষমতা বোঝে নি। মুসলমানরা বরাবর মুসলমান হিসেবে ভোট দিয়েছে, হিন্দুরা ভোট দিয়েছে নিজের নিজের পছন্দের পার্টির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে। সেকুলার ভারতে হিন্দু হিসেবে ভোট দেওয়া যায়, এবং সেই ভোটে সরকার গড়া যায় একথা বাবরি ধ্বংসের আগে হিন্দুরা কোনদিন ভাবতেই পারেনি। সেই ঘটনার পরে কিন্তু হিন্দুদের মনে নিজেদের দেশ নিজেরা শাসন করার একটা আকাঙ্খার জন্ম নিয়েছে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। তাই এই ‘হিন্দু তোষণ’ অথবা হিন্দুত্ব কেন্দ্রিক রাজনীতি বর্তমান সেকুলার ভারতে সম্ভব হয়েছে কোনও রাজনৈতিক দল অথবা নেতার বদান্যতায় নয়, এটা সম্ভব হয়েছে হিন্দু তার শক্তি সম্পর্কে অবহিত হয়েছে বলে, বিশেষতঃ সে তার ভোটের মূল্য এবং ক্ষমতা – দুটোই বুঝতে পেরেছে বলে।
একদিকে হিন্দু তার ভোটের মূল্য বুঝতে পেরেছে। অপরদিকে মোদি-শাহ’র বিজেপিও হিন্দুদের ভোটের মূল্য কিছুটা হলেও দিয়েছে। প্রতিদানে হিন্দুরাও তাদের বিমুখ করে নি। পরিণামে আজ হিন্দু ব্লকভোট‌ আর বিজেপির সাপোর্ট বেস সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলস্বরূপ কোনঠাসা হয়েছে সেকুলারিজমের নামে মুসলিম তোষণকারী প্রত্যেকটা দল। চাপে পড়ে এখন অনেকের মাথা থেকে ফেজটুপি সরে যাচ্ছে, নেমে যাচ্ছে নীলসাদা হিজাব। সম্প্রতি আমাদের রাজ্যে উদ্বাস্তুদের জন্য জমির পাট্টা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। খুব সম্ভব রাজ্য সরকারের দৃষ্টিতে হিন্দুরাই উদ্বাস্তু। যদি তা ই হয়, তাহলে কি এবার এই রাজ্যেও ‘হিন্দু তোষণ’ পর্ব শুরু হতে চলেছে? অসম্ভব কিছু নয়।
১৫-২০% বাম ভোটের সাথে গোটা ১৫% মুসলিম ভোট তৃণমূলের থেকে বেরিয়ে গিয়ে জোট বাঁধার যে ভয় দেখিয়ে রাজ্যের মুসলমানরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্ল্যাকমেল করছিল, বামেদের ভোট কমে গিয়ে ৭% এ ঠেকায় এখন সেটা আর করা সম্ভব হচ্ছে না। সুতরাং মমতা ব্যানার্জির মুসলিম তোষণের কম্পালশন আর বিশেষ নেই। তাই এখন ওয়েসি-র মিম পার্টিকে এনে তৃণমূলের মুসলিম ভোট কাটার ভয় দেখিয়ে মমতাকে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করছে মুসলমানেরা। কিন্তু মুসলমানরা কি তৃণমূলের ভোট কেটে বিজেপির সুবিধা করে দিতে চাইবে? তারা এটা করবে বলে আমার মনে হয় না। তাহলে নিজেদের বাঁচার তাগিদে তৃণমূলকে বাঁচিয়ে রাখার কম্পালশন এখন কাদের? মমতা ব্যানার্জি এখন মুসলমানদের কেবল বিজেপির জুজু দেখিয়েই শান্ত করে রাখবেন। আমি বিশ্বাস করি মমতা ব্যানার্জি যা করেন, নিজে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যই করেন।
এদিকে মিমের প্রচারে যে হিন্দু কনসলিডেশন তৈরি হবে, তাকে ভাঙার জন্য মমতা ব্যানার্জিকে হিন্দুর জন্য হাত খুলতেই হবে। ইতিমধ্যেই তার কিছু কিছু ইঙ্গিত‌ও পাওয়া যাচ্ছে। মাথার হিজাব তো নেমে গেছেই, সাথে সাথে পূজার ভোগ রান্না করার ভিডিও বের করা হচ্ছে। উদ্বাস্তুদের জন্য জমির পাট্টা দেওয়ার ঘোষণাও অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। তবে নাগরিকত্ব বিল পাশ হলে মমতার উপরে চাপ আরও বাড়বে। আমার ধারণা তৃণমূল উদ্বাস্তু হিন্দুদের ভোটের কথা মাথায় রেখে এই নাগরিকত্ব বিল পাশ করাতে পরোক্ষভাবে কেন্দ্রীয় সরকারকে সহযোগিতাই করবে। 
হিন্দু ভোট যত কনসলিডেট হবে, হিন্দু তোষণের প্রতিযোগিতা তত বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে লাখ টাকার প্রশ্ন থেকেই গেল – রাজ্যের রাজনীতিতে ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হতে থাকা মুসলিম ভোটের লোভে পড়ে রাজ্য বিজেপি নিজেদের পায়ে, সাথে সাথে পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালী হিন্দুর পায়ে কুড়াল মারবে না তো? বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এই সংগঠিত হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে taken for granted মনে করছে না তো!

রক্ত দিয়ে কেনা মাটি কাগজ দিয়ে নয়

কলকাতার ডার্বি চলছে। ‘রক্ত দিয়ে কেনা মাটি কাগজ দিয়ে নয়’ লেখা একটি ব্যানার শোভা পাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল গ্যালারির মাথায়। ম্যাচ শেষ হতে না হতেই নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন। কে জিতলো, কে হারলো সেটা হয়ে গেল গৌণ। বাঙালীর ফুটবলের আবেগ রূপ নিলো রাজনীতির তড়জায়!
এই ব্যানারটা লাগিয়েছিলো ইস্টবেঙ্গল আল্ট্রাস্ নামের একটি গ্রুপ। এরা মূলতঃ বামপন্থীদের একটা গোষ্ঠী। যদিও বামপন্থীরা বর্তমানে লুপ্তপ্রায়, তবে যেকজন টিকে আছে তারা কুমীরের ছানার মত সময় ও সুযোগ বুঝে বিভিন্ন মঞ্চে হাজির হয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে। কারণ তাদের ‘দীর্ঘজীবী বিপ্লব’ এখন সাত পার্সেন্টে এসে ঠেকেছে। আর সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের পরে তারা এখন একেবারে চোরাবালির উপরে দণ্ডায়মান। এই সাত পার্সেন্ট কমতে কমতে ২০২১-এ যে দুই পার্সেন্টেও টিকবে না – এটা তারা ভালোভাবেই বুঝতে পারছে। তাই এখন যেকোনো ভাবে ভেসে থাকতে হবে, খবরে থাকতে হবে, চর্চায় থাকতে হবে। তাই কিছুটা অক্সিজেন পাওয়ার আশায় ডার্বির মাঠে সিএএ বিরোধী ব্যানার টাঙানো।
আমাদের ছোটবেলায় পাড়ার কিনুকাকা আমাদের জোকস্ শুনাতেন, আমরাও আগ্রহ সহকারে সেগুলো রীতিমত গিলতাম। একদিন কিনুকাকা শুরু করলেন; বুঝলি, একবার একটা ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে কলকাতায়। বিষয় হল কার টেকনোলজি কত উন্নত। জাপানের বৈজ্ঞানিকরা এমন একটা সূঁচ তৈরি করে ফেললো যে সেটা খালি চোখে দেখাই যায় না! তখন আমেরিকার বৈজ্ঞানিকরা এগিয়ে এলো। সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়ে তারা সেই সূঁচের মধ্যে একটা ফুঁটো করে দিলো। ব্যাস্! পৃথিবীর সব দেশের বৈজ্ঞানিকরা হাত তুলে দিলো। সেরা পুরষ্কার আমেরিকার সেই বৈজ্ঞানিকের হাতে তুলে দেওয়া হবে, ঠিক সেই মূহুর্তে আমাদের ১০নং ওয়ার্ডের সর্বহারার নেতা কমরেড বিভাসদা বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে একেবারে মঞ্চের উপরে এসে হাজির! দাদা একটা চান্স্ দেবেন আমায়? না হলে কিন্তু ইউনিয়নের লোক ডেকে সব ভন্ডুল করে দোবো বলেদিলাম! অগত্যা, সেই সূঁচ তুলে দেওয়া হল কমরেড বিভাসের হাতে। কারণ রাজ্যে তখন মানুষের শরীরের রক্ত বাদে সবকিছুই লাল। কমরেড তখন পকেট থেকে বিড়ির প্যাকেটটা বের করে তার মধ্যে সুঁচটা ঢুকিয়ে দিলো আর সেই প্যাকেটের উপরে লিখে দিলো ‘Made in China’। তারপর হাত মুঠো করে আকাশে ঘুষি মেরে বললো ‘চিনের চেয়ারম্যান, আমাদের চেয়ারম্যান’!
এটাই বাম-বামাতিদের সংস্কৃতি। অন্যের প্রডাক্টে নিজেদের ট্রেডমার্ক লাগিয়ে বেচে দেওয়াটাই তাদের বিপ্লবের কঠিন পথ। আপনি দুর্গাপূজা করুন, এরা সেই আসরে নিজেদের ‘ধর্ম মানে আফিম’ শীর্ষক বই বেচতে চলে আসবে। আপনি পাড়ায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করুন, সঙ্গে সঙ্গে পাড়ার দুজন কমরেডকে মঞ্চে তুলে ‘ওরা জীবনের গান গাইতে দেয় না’ অথবা ‘হেনরির হাতুড়ি’ গাইয়ে আপনার মঞ্চটাকেই ওদের বিপ্লবী মঞ্চে পরিণত করার চেষ্টা করবে। একই ভাবে ডার্বির মাঠে ওদের প্রথম লক্ষ্য ছিল মিডিয়া অ্যাটেনশন, আর দ্বিতীয় লক্ষ্য ছিল নিজেদের মতামতটাকে গোটা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের মতামত বলে চালিয়ে দেওয়া, যেন গোটা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সভ্য-সমর্থক তথা বৃহত্তর ইস্টবেঙ্গল সমাজ (ওপার বাংলা থেকে আসা উদ্বাস্তু সমাজ)-এর প্রতিনিধিত্ব ওরাই করছে। এটা ছিলো গোটা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের উপরে ‘সিএএ বিরোধী’ তকমা লাগিয়ে দেওয়ার একটা অপচেষ্টা।
এতো গেল বাম-বামাতিদের দুর্বুদ্ধির কথা। এবার আসি রক্ত দিয়ে মাটি কেনার বিষয়ে। বলুন তো এপারে এসে মাটি কিনতে কতজনকে ক‌’ফোঁটা রক্ত দিতে হয়েছে! উদ্বাস্তুদের এপারে থাকার জন্য কার সাথে লড়াই করতে হয়েছে? যদি কেউ এই উদ্বাস্তুদের রক্ত ঝরিয়ে থাকে, তারা হল এই বামপন্থীরাই! মরিচঝাঁপির ইতিহাস নিশ্চই আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না! আজকে তারাই বলছে রক্ত দিয়ে কেনা মাটি! তাই এই রক্ত দিয়ে মাটি কেনার দাবী বাম-বামাতিদের মুখে শোভা পায় না। আর যদি পরিশ্রম ও কষ্টকে রক্তমূল্য ধরা হয় তাহলে এই কষ্টের কারণ কি? এই পরিশ্রম কেন? কেন গোলাভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ ওপারে ফেলে এপারে আসতে হল? কারা সেগুলো কেড়ে নিয়েছিল? কারা তাদের বাড়িতে আগুন দিয়েছিল? কারা তাদের বাপ-ঠাকুরদাকে খুন করেছিল? কারা তাদের পরিবারের মহিলাদের ধর্ষণ করেছিল? কারা তাদের রক্ত ঝরিয়েছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কি তাদের অজানা? যারা আজ বড় গলায় বলছে রক্ত দিয়ে কেনা মাটি তাদের বলতে চাই, রক্ত দিয়ে মাটি তোমরা কেনো নি ভাই, তোমাদের রক্ত সিঞ্চিত মাটি মুসলমানরা তোমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। আজ একথা স্বীকার করার মত সাহসও তোমাদের নেই। মাস্টারদা সূর্যসেন, লোকনাথ বল, প্রীতিলতাদের রক্তসিঞ্চিত সেই জালালাবাদের মাটির অধিকার দাবী করার সতসাহস আছে তোমাদের? বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তোমাদের পূর্বপুরুষ যাঁরা আত্মবলিদান দিয়েছিলেন, তাদের রক্তস্নাত মাটির অধিকার দাবী করার সতসাহস আছে ভাই? তাদের রক্তের মূল্য কি তোমরা কোনও দিন দিয়েছো বা ভবিষ্যতেও কোনও দিন দিতে পারবে? তাই রক্তদানের কথা আজ তোমাদের মুখে শোভা পায় না। তোমরা আগাপাস্তলা ভণ্ড।
রইলো কাগজের কথা। আজও ঠাকুরদার পুরোনো টিনের বাক্সটা হাতিয়ে দেখো। যশোর কিংবা ময়মনসিংয়ে ফেলে আসা ভিটের কাগজটা সযত্নে রাখা আছে হয়তো। আজও আশা আছে, যদি কোনোদিন এই কাগজের মূল্য পাওয়া যায়! আমি শুনেছি একটা রিফিউজি সার্টিফিকেটের জন্য হন্যে হয়ে সরকারী অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ানোর ইতিহাস। আমি দেখেছি এনিমি প্রোপার্টির কাগজ নিয়ে সরকারী অফিসের সামনে লম্বা লাইন দিয়ে মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে। যদি এই কাগজের বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ কিছু অর্থমূল্য পাওয়া যায়! ওপার থেকে এপরে এসে একটা জাল রেশন কার্ড, একটা জাল ভোটার কার্ড নিদেনপক্ষে একটা ভুয়ো স্কুল সার্টিফিকেটের জন্য কী পরিমান ছোটাছুটি মনে নেই! সেগুলোও তো নিছক কাগজই, তাই নয় কি? সুতরাং ওপার থেকে এপারে আসার পর আজ তোমরা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছো, তোমাদের পূর্বসুরীদের মেধা এবং পরিশ্রমের বেশীরভাগটাই খরচ হয়েছে কাগজ যোগাড় করার জন্য।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন জাতীয়তাবাদী শক্তি (Making India Force)এবং জাতীয়তাবিরোধী শক্তিকে (Breaking India Force)- এই দুটি শিবিরে ভাগ করে দিয়েছে। আজ সময় এসেছে, আমাদের সঠিক পক্ষ বেছে নেওয়ার। বন্ধ্যা নারীর যেমন গর্ভযন্ত্রণার বিবরণ দেওয়া বাতুলতা মাত্র, ঠিক সেইভাবেই সেকুলার বাঙালদের মুখ দিয়ে ‘রক্তের মূল্য’ সম্পর্কে বেশী কিছু প্রকাশিত না হওয়াই ভাল। যারা বৈধ নাগরিকত্বের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে এবং জাল কাগজের ভিত্তিতে বেঁচে থাকাকে সম্মানজনক মনে করে, শেষপর্যন্ত কি তাদের কাছে রক্তের মূল্য সম্পর্কে শিক্ষা নিতে হবে! এরা আসলে ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-য়ের স্লিপার সেল। এদের চিহ্নিত করতে হবে এবং এদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিশেষে বলতে চাই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে দুহাত তুলে স্বাগত জানান এবং নিশ্চিতভাবে জানুন, এই আইনই বাস্তবে ছিন্নমূল ভারতপ্রেমীদের রক্তের মূল্য এবং মর্যাদা দিয়েছে।  

যদি বাঙাল হিসেবে গর্ব করতেই হয়, সেটা ঢাকার ধানমন্ডিতে দাঁড়িয়ে করবো

আমি একজন সনাতনী। আমি একজন বাঙ্গালী, বিশেষত একজন বাঙাল। প্রত‍্যেকটা আইডেন্টিটি আমার কাছে সমান গুরুত্বের। বাঙাল হিসেবে গর্ব করার মত অনেক কিছুই আছে আমাদের, যা ‘অবাঙাল’ দের কাছে ঈর্ষণীয়। কিন্তু যেদিন পায়ের তলার মাটি হারিয়েছি, সেদিন থেকে আমাদের এই গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে গর্ব করার অধিকার আমরা হারিয়েছি। পরাজিত জাতি যতক্ষণ পর্যন্ত বিজেতাকে পদানত করে নিজের অধিকার ছিনিয়ে নিতে না পারে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার গর্ব করার কিছুই থাকতে পারে না।পরাজিত জাতির মধ্যে যেমন বিনয়-বাদল-দীনেশ-মাস্টারদা জন্মান, সেইরকমই অসংখ্য নেত্রসেন, জ্যোতি বোস, সুজন চক্রবর্তীরাও জন্মগ্রহণ করেন। আমি প্রথম দলেই নাম লিখিয়েছি। যে মাটি আমাকে ঠাঁই দিয়েছে তাকে রক্ষা করা এবং বাপ-ঠাকুরদার হারানো মাটি পুনরায় অধিকার করার জন‍্য‌ই আমার এই লড়াই। মৌলবাদী ইসলামের কারণে আমার প্রতিটি আইডেন্টিটি আজ বিপন্ন। এই লড়াইয়ে আমি সনাতনী মূলের প্রত্যেককে সাথে চাই।যদি বাঙাল হিসেবে গর্ব করতেই হয়, সেটা ঢাকার ধানমন্ডিতে দাঁড়িয়ে করবো, রমনা কালীমন্দিরে মায়ের পূজা দিয়ে করবো। আমি না পারলে আমার ছেলে, সে না পারলে তার ছেলে করবে। কিন্তু ঘরে একদিন আমরা ফিরবোই। ততদিন শুধুই লড়াই, শুধুমাত্র লড়াই।

তোমার প্রেরণা যদি মে-দিবস হতে পারে, দিওয়ালি কেন আমার নয়?

কালিপূজা নাকি দীপাবলী(দিওয়ালি)- কোনটা আমার কোনটা আমার নয়। ন্যারেটিভ নামছে বিভিন্ন আঙ্গিকে। যারা ধর্মকে আফিম বলতো, তারাও আজ বলছে আমাদের কালিপূজা, দিওয়ালি আমাদের নয়! প্রশ্নটা বাঙ্গালী এই ন্যারেটিভ খাবে কি খাবেনা তা নিয়ে নয়, প্রশ্নটা হচ্ছে এরা বাঙ্গালীর বুদ্ধিবৃত্তির খিল্লি উড়াচ্ছে এটা যে বাঙ্গালী বুঝে নিয়েছে সেটা আজও কেন এরা বুঝতে পারে না?
পাকিস্তানের দাবিকে সমর্থন, পাকিস্তান সৃষ্টির পর দেশভাগের বলি বাঙ্গালী উদ্বাস্তু ভোটব্যাঙ্কের উপরেই ভিত্তি করে ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা! কী অদ্ভুত না? একদিকে দলিতের মসীহা সেজে ‘ওরা জীবনের গান গাইতে দেয় না’ অথবা ‘হো হো হো হো হেনরির হাতুড়ির সুর’- এ আকাশ বাতাস মুখরিত করে রাখা, অন্যদিকে মরিচঝাঁপিতে সেই দলিত নমঃশূদ্রদের মাথায় হেনরির হাতুড়ির নির্মম আঘাত হানা! আজও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করে যারা দলিত বাঙ্গালী উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ বানচাল করে দিতে চায়, তারাই বাঙ্গালীর মুখ হয়ে উঠতে চাইছে বাঙ্গালী-অবাঙ্গালী হিন্দুদের মধ্যে লড়াই লাগিয়ে দিয়ে! অথচ একদিন এরাই বলতো এদের দৃষ্টিতে সমাজ কেবলমাত্র দুটো শ্রেণিতে বিভক্ত- Haves আর Have nots! নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে প্রতিদিন এরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে কেবলমাত্র এই বিশ্বাসে যে জনগণের (পড়ুন বাঙ্গালীর) কোনদিনই তাদের এই দ্বিচারিতা ধরে ফেলার বুদ্ধি জন্মাবে না। আজ ৭% এ বান্ডিল হয়ে গিয়েও তাদের এই বিশ্বাস অটুট! কী আশ্চর্য রকমের নির্বোধ এরা!
আমার সোজাসুজি প্রশ্ন- রাশিয়া, চিন কিংবা ভিয়েতনাম যদি তোমার প্রেরণা হতে পারে, ভারতের অযোধ্যা কেন বাঙ্গালীর প্রেরণা হতে পারে না? হেনরির হাতুড়ি যদি তোমার প্রেরণা হতে পারে, রামচন্দ্রের ধনুষ্-বাণ কেন বাঙ্গালীর প্রেরণা হতে পারে না? আমেরিকার মে-দিবস যদি তোমার প্রেরণা হতে পারে, অযোধ্যার দিওয়ালি কেন বাঙ্গালীর প্রেরণা হতে পারে না? 
অন্য একটা আঙ্গিকে এই বিষয়টাকে দেখা যাক। কালিপূজা হল শাক্ত বাঙ্গালীর মূলধারা। যেখানেই বাঙ্গালী, সেখানেই মা কালী। এটা এক্সক্লুসিভলি বাঙ্গালীর। দীপাবলী বা দিওয়ালির সাথে বাঙ্গালীর এই কালীপূজার সম্পর্ক বিশেষ কিছু নেই। তবে দিওয়ালি কি? নিজেদের পরাক্রমে রাবণকে বধ করে স্বর্ণলঙ্কা বিজয়ের পরে রামানুজ লক্ষ্মণের মনে হল এই সমৃদ্ধ নগরী ছেড়ে আবার অযোধ্যায় ফিরে যাওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়! এই প্রস্তাব শোনার পরে শ্রীরাম বললেন ‘অপি স্বর্ণময়ী লঙ্কা, ন মে রোচতে লক্ষ্মণ/ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী’। সুতরাং এবার ঘরে ফেরার পালা। শ্রীরাম  অযোধ্যায় ফিরছেন। অযোধ্যাবাসী স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। কিন্তু সেই দিনটা ছিল অমাবস্যা। অমাবস্যার অন্ধকার কাটাতে অযোধ্যা নগরীকে দীপের আলোর সাজে সাজানো হল সেই রাতে। সেই থেকে দীপাবলী বা দিওয়ালি। অর্থাৎ দিওয়ালি হল ঘরে ফেরার উৎসব।
বাঙ্গালীর উদ্বাস্তুরা এই দিওয়ালিকে আপন করে নিতে পারে না ‘ঘরে ফেরা’-র সংকল্পের প্রেরণা হিসেবে? কি ভাবছেন? আকাশ কুসুম কল্পনা? ফ্যান্টাস্টিক ননসেন্স? ইহুদীরা ঘরে ফিরতে পেরেছে? হ্যাঁ, হয়তো প্রায় দু’হাজার বছর লেগেছে। কিন্তু ফিরেছে। এই দীর্ঘ সময় ধরে কয়েক প্রজন্ম ঘরে ফেরার স্বপ্ন, এই সংকল্পের আগুনকে বুকে জ্বালিয়ে রেখেছে এবং তারজন্য চেষ্টা করেছে বলেই তো সেটা সম্ভব হয়েছে! আমরা ভাবতে পারি না ঘরে ফেরার উৎসব একদিন আমরাও পালন করবো? রমনার কালীমন্দিরে কিংবা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে? যশোর থেকে সিলেট, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রাম আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে কোনও এক রাতে! আমরা ঘরে ফিরবো! হ্যাঁ, অখণ্ড বাংলা হবে। তবে সেটা গ্রেটার বাংলাদেশ নয়, সেটা হবে গ্রেটার পশ্চিমবঙ্গ, অখণ্ড সনাতনী বাংলা।