শ্রীরামচন্দ্র কি দলিত বিরোধী ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রতীক?

রামচন্দ্র দলিত বিরোধী ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রতীক। দলিতদের তাই রামের পূজার বদলে রাবণের পূজা করা উচিৎ’ – অনেকদিন ধরেই এই ধরণের ন্যারেটিভ নামিয়ে হিন্দু সমাজকে বিভাজিত করার চেষ্টা করেছে দলিত-মুসলিম ঐক্য ব্রিগেড এবং বামৈস্লামিক আঁতেলরা। অনেক জায়গায় এদের উদ্যোগে রাবণপূজাও ঘটা করে করা হয়েছে এবং তার প্রচার করা হয়েছে তার চেয়েও বেশি ঘটা করে। কিন্তু তাতে ডাল গলে নি। শ্রীরামের প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি একফোঁটাও কমেনি জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দুর মনে। এখন আবার নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে- রামমন্দিরের ভূমি পূজার জন্য অযোধ্যায় মতুয়াদের পক্ষ থেকে কেন মাটি যাবে? এই প্রসঙ্গে কয়েকটা কথা সোজাসুজি বলা দরকার।

প্রথমত, ভগবান রামচন্দ্র ব্রাহ্মণ ছিলেন না, বরং ব্রাহ্মণ ছিলেন রাবণ। তাই রামচন্দ্র কর্তৃক রাবণ বধ দলিতের উপরে ব্রাহ্মণ্যবাদের অত্যাচার- একথা ধোপে টেকে না।

দ্বিতীয়ত, বনবাসে থাকাকালীন রামচন্দ্র যাঁদের সংস্পর্শে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে গুহক রাজা (যিনি জাতিতে ছিলেন চন্ডাল), মাতা শবরী ( যিনি জাতিতে ছিলেন শবর) উল্লেখযোগ্য। এঁদের এবং রামচন্দ্রের মধ্যে পারস্পরিক যে সম্পর্কের বর্ণনা রামায়ণে আছে, তাতে এঁদের প্রতি রামচন্দ্রের মনে গভীর ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার ছিল এবং পক্ষান্তরে তাঁদের মনেও শ্রীরামের প্রতি ছিল অগাধ ভক্তি ও শ্রদ্ধা; এবিষয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই।

তৃতীয়ত, রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিযানে রামচন্দ্রের সাথে কতজন উচ্চবর্ণের লোক ছিলেন বলতে পারেন? তাঁর সৈন্যদল ছিল বনবাসী, গিরিবাসীদের নিয়ে তৈরি। এদেরকেই তো দলিত বলা হয়, তাই নয় কি? তাহলে দেখা যাচ্ছে সৈনিকরা তথাকথিত দলিত সম্প্রদায়ের, সেনাপতির ভুমিকায় তথাকথিত দলিতরা এমনকি শ্রীরামের শ্রেষ্ঠভক্ত হনুমান একজন বনবাসী অর্থাৎ তথাকথিত দলিত। আর সবাই মিলে যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাচ্ছে, সে হল একজন ব্রাহ্মণ!

আসলে ‘দলিত-মুসলিম ঐক্য’ ব্রিগেড এবং বামৈস্লামিক আঁতেলদের এই বিষয়ে আর একটু ওয়ার্ক আউট করে মাঠে নামা উচিৎ ছিল। হিন্দুরা আগের তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশী সচেতন। ইন্টারনেটের যুগে একজন সাধারণ হিন্দুও জানে রামমন্দির নির্মাণের জন্য যে ট্রাস্ট তৈরি হয়েছে তাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে একজন তথাকথিত দলিত আছেন, যিনি রামমন্দিরের শিলান্যাসের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। তাঁর নাম কামেশ্বর চৌপাল। এছাড়াও আপনাদের হয়তো মনে আছে বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার পরে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে উত্তরপ্রদেশের সরকারকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সরকারের মাথায় যিনি ছিলেন তাঁর নাম কল্যাণ সিং। আপোষহীন এই তথাকথিত দলিত ভদ্রলোক সেদিন নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ারের বলিদান দিয়েছিলেন শ্রীরামের চরণে। তাই যুক্তিহীন মনগড়া ন্যারেটিভ নামিয়ে আর হিন্দুদের আর বোকা বানানো যাবে না। রামের নামে জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দুরা আগেও একত্রিত ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

মতুয়া সমাজের প্রতিষ্ঠাতা ঠাকুর হরিচাঁদ, পরবর্তীতে ঠাকুর গুরুচাঁদ এবং শ্রী প্রমথনাথ ঠাকুর হিন্দু সমাজে কালের প্রভাবে সৃষ্টি হ‌ওয়া সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে শোষিত নিপীড়িত মানুষদের সংগঠিত করেছিলেন, তাঁদের উত্থানের প্রয়াস করেছিলেন, কিন্তু কখনোই নিজেদের হিন্দু সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করেন নি। তাই মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামের মন্দিরের জন্য মতুয়াদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করাই স্বাভাবিক। হিন্দু সমাজের মধ্যে একাত্মতা নির্মাণে সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মতুয়া সমাজের বর্তমান নেতৃত্বকে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ণায়ক যুদ্ধই হল ধর্ম

একটা বিশাল প্রাণীকে কাবু করে ফেলার পরেও অজগর কিন্তু একবারে সেটাকে গিলে খেতে পারে না৷ ক্ষমতা এবং ক্ষুধা অনুযায়ী একটু একটু করে গিলতে থাকে ৷ খাওয়া কতদিনে শেষ হবে তা নির্ভর করে শিকারের সাইজের উপরে এবং শিকারীর হজম ক্ষমতার উপরে৷ শিকারের ছটফটানি দেখে কেউ বলে যে এখনও ধড়ে প্রাণ আছে, এখনও লড়াই করছে, এখনও আত্মসমর্পণ করে নি; সুতরাং যুদ্ধ শেষ হয় নি৷ তাহলে সে টেকনিক্যালি একশো শতাংশ সত্যি কথা বললেও সেই কথা কারো মনে এই আশা জাগাবে না যে, শেষ পর্যন্ত সেই শিকার অজগরের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবে৷

মুসলিম আগ্রাসনের শিকার আমাদের হিন্দু সমাজের অবস্থা আজ সেই অজগরের গ্রাসে আবদ্ধ অসহায় প্রাণীর মত। সুদীর্ঘ লড়াইয়ের পর আজকে যদি আমরা হিসাবে বসি, তাহলে দেখবো আমাদের মাটি গেছে, দেশ ছোট হয়েছে৷ আমাদের মানুষ ধর্মান্তরিত হয়ে সমাজ ছেড়ে চলে গেছে, সমাজ ছোট হয়েছে৷ রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেলেও হিন্দুর ধর্মীয় স্বাধীনতা লুন্ঠিত হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে৷ আজও বাংলার গ্রামেগঞ্জে জমি দখল চলছে অবাধে৷ হিন্দু মেয়েদের ছলে-বলে-কৌশলে হিন্দু সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে লাভ জেহাদের মাধ্যমে৷ হিন্দু সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে হিন্দুর ধর্মাচরণ সংখ্যাগুরুদের অনুমতি সাপেক্ষ৷ ভারতের ইসলামীকরণ চলছে নিজের গতিতে৷ আফগানিস্তান গেছে, পাকিস্তান গেছে, গেছে সোনার বাংলা৷ ভূস্বর্গ কাশ্মীর থেকেও নেই৷ পশ্চিমবঙ্গ, আসাম যাওয়ার পথে৷ সম্পূর্ণ ভারতের ইসলামীকরণ শুধু সময়ের অপেক্ষা৷

আজকে  ভারতে যে মুসলমানদের দেখতে পাচ্ছি, তাদের সিংহভাগই তো হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত৷ সুদীর্ঘ মুসলিম শাসনে যারা ভয়ে অথবা স্বার্থের লোভে হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়ে গিয়েছিল, তাদেরই বংশধর৷ আর ভারতের হিন্দুদের বর্তমান প্রজন্ম হল সেই সব বীর এবং ধর্মনিষ্ঠ ব্যক্তিদের উত্তরসূরী, যাঁরা সেই সময় শাসক মুসলিম শক্তির বিরুদ্ধে প্রাণপণ লড়াই করেছেন কিন্তু ধর্মত্যাগ করেন নি৷ কিন্তু আজকে আমরাই মুসলিম আগ্রাসনের সামনে পর্যুদস্ত হয়ে পড়ছি৷ তাদের অন্যায়, অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে সাহস করছি না৷ বরং কোন সাহসী হিন্দু রুখে দাঁড়ালে, তাকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করার পরিবর্তে তাকেই উল্টে দোষারোপ করছি৷ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় হিন্দুরা নরকযন্ত্রণা ভোগ করেও অত্যাচারী মুসলমানদের সাথে আপোষ করে থাকাকেই নিরাপদ বলে মনে করছে৷ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা, হিন্দুর এবং তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থরক্ষার কথা বলতে গেলে এই অত্যাচারিতরাই বলে,”আপনারা এখানে আসা যাওয়া না করলেই আমরা ভালো থাকবো”৷ আর যেখানে মুসলিম সমস্যা এখনও প্রকট হয়ে ওঠে নি, সেখানকার হিন্দুরা উদাসীন৷

এই ক্লীবতা, কাপুরুষতা, জড়তা, সংবেদনহীনতাকে সম্বল করে শুধু প্রাচীন গৌরবগাথা গেয়ে কোন জাতি টিকে থাকতে পারে না৷ হিন্দুকে যদি অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়, তবে এই জড়তাকে ঝেড়ে ফেলে মাথা উচু করে দাঁড়াতে হবে৷ চাই একটা মরিয়া প্রয়াস৷ যেখানেই একজন হিন্দুর উপরে অত্যাচার হবে, প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে হবে৷ প্রতিকার করতে হবে তৎক্ষণাৎ৷ সাপ ফণা তোলার সাথে সাথে থেঁতলে দিতে হবে সেই ফণা ৷ তবেই হিন্দু বাঁচবে, দেশ বাঁচবে৷ মনে রাখতে হবে অন্যায়ের সাথে আপোষ করে শান্তিলাভ করা যায় না৷ শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় অন্যায়ের বিনাশ হলে৷ গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আঠারো অধ্যায় ধরে অর্জুনকে এই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন৷ অধর্মের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াইয়ের বার্তাই হল গীতাসার৷ অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ণায়ক যুদ্ধই হল ধর্ম৷ বাঁচার অন্য কোন পথ নাই৷ তাই রাসবিহারী বোস, বিনয়-বাদল-দীনেশদের এই মাটিতে আজ আবার ধ্বনিত হোক-

"এসেছে সে এক দিন

লক্ষ পরাণে শঙ্কা না মানে, না রাখে কাহার ঋণ

জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য

চিত্ত ভাবনাহীন৷৷"

সীমাবদ্ধ একতাই শক্তি

কোন একটা সুস্পষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে যখন আপনি এগিয়ে যাবেন, তখন সমমনস্ক ব্যক্তিরা আপনাকে কেন্দ্র করে একত্রিত হবে। এই সমস্ত লোকেদের ত্যাগ তিতিক্ষা আপনার মিশনের শক্তি বাড়াবে। এইভাবে আপনার মিশন ক্রমশঃ প্রচার ও পরিচিতি লাভ করবে। এইবার আপনার এই ক্ষমতা ও শক্তিকে দেখে লোকেরা আপনার সাথে যুক্ত হতে চাইবে।

বাঙালি হিন্দুর মানসিকতার অনুভব এবং কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যারা এইভাবে এগিয়ে আসে তাদের বেশীর ভাগই সমস্যায় পড়ে তার সমাধানের জন্য আপনার শক্তি ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করার মানসিকতা নিয়ে আসে। নিজের স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে যোগাযোগ রাখে না। আর সমাধান না হলে সংগঠনকে গালমন্দ করে। এরা এখানে আসে হাত পেতে।

সবাই ধান্দাবাজ নয়। কিছু লোক আসে শেলটার বা প্রোটেকশন পাওয়ার আশায়। তারা সংগঠনকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু without any contribution! আপনার নাম ভাঙিয়ে তারা নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখতে চায়। কিন্তু আপনার মিশনের অগ্রগতির সাথে এদের কোন লেনাদেনা নেই। খালি স্তুতি আর প্রশংসার গ্যাস বেলুন ছাড়া এদের কাছে পাওয়ার কিছু নেই।পাশাপাশি সীমিত লোক আসে হাত উপুড় করে। আপনার মিশনকে নিজের মিশন মনে করে তাকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে যথাসাধ্য উজাড় করে দিয়ে যেতে আসে। এরাই অ্যাসেট।

এইবার আপনি ভাবুন একতা একতা করতে গিয়ে আপনি যদি বহুসংখ্যক লেনেওয়ালা আর অল্পসংখ্যক দেনেওয়ালাকে একসাথে নিয়ে চলতে চান, আপনার মিশনের ভবিষ্যত কি হবে? তাই আপনার মিশনকে সাফল্যের মুখ দেখাতে হলে আপনাকে এই ট্র্যাডিশনাল একতার ভাবনা থেকে শত হাত দূরে থাকতে হবে। আপনাকে ফিল্টার অ্যাপ্লাই করতে হবে। দেনেওয়ালা অল্পসংখ্যক লোকদেরকে অ্যাসেট মনে করতে হবে। এদেরকে আহ্বান করতে হবে। এদেরকে বুক দিয়ে আগলে রাখতে হবে। একতার ভাবনাটাকে এই গ্রুপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। আর বাকীদেরকে সচেতনভাবে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। কারণ এরা লায়াবিলিটি। এরা আপনাকে পিছনে টেনে ধরে রাখবে, আর use করবে।

আজ আমাদের সমাজের মানসিকতার পরিপ্রেক্ষিতে আমার স্পষ্ট মত – সার্বিক একতা শক্তি নয়, লায়াবিলিটি। তবে দেনেওয়ালাদের মধ্যে একতা অবশ্যই শক্তি এবং এই Restricted বা সীমাবদ্ধ একতা একান্ত কাম্য।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ড্রাইভিং সিটে হিন্দুরা আর কতদিন

অযোধ্যার রামমন্দির হিন্দুদের আবেগের প্রতীক।প্রত্যেক শুক্রবার, বিশেষতঃ ঈদের দিন আনলক রেখে বিচ্ছিন্নভাবে ৫ই আগস্ট, রামমন্দিরের ভূমিপূজনের দিনটাতে লকডাউন ঘোষণা করে এই সরকার সরাসরি হিন্দুদের আবেগে আঘাত করেছে। এটা কি ঠিক তোষণ? না কি এটা তোষণের পরবর্তী পর্যায়? তৃণমূলের নেতৃত্বকে বুঝতে হবে যে তাদের রাজনৈতিক শত্রুতা হল বিজেপির সাথে, ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের সাথে নয়, এমনকি রামভক্ত হিন্দুদের সাথেও নয়। শাসকদলের এই সমস্ত সিদ্ধান্ত দেখে মনে হচ্ছে তৃণমূল দলটার লড়াই যেন ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের বিরুদ্ধে এবং তাঁর ভক্তদের বিরুদ্ধে! যত দিন যাচ্ছে এই দলটা শুধুমাত্র মুসলিম তোষণকারী হিসেবে নয়, হিন্দুর শত্রু হিসেবেই যেন নিজেকে চিহ্নিত করে ফেলছে। এই হিন্দু বিরোধী তকমা ঝেড়ে ফেলতে হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে, এবং সেটাও খুব কম সময়ে। আর উনি এবং ওনার দল যদি বিজেপি বিরোধিতা করতে গিয়ে গোটা হিন্দু সমাজের বিরোধী অবস্থানে নিজেদের নিয়ে চলে যান তবে ২০২১শে তাদের মহাবিপর্যয় সুনিশ্চিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে রাখা উচিৎ, সংখ্যাতত্ত্বের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির নিয়ন্ত্রক এখনও হিন্দুরাই, মুসলমানরা নয়। তাই হিন্দুর আবেগকে আহত করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না।

কিন্তু এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুর ভোটের এবং ২০২১শে ক্ষমতা দখলের প্রধান দাবিদার বিজেপির পক্ষ থেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ, এমনকি সমালোচনা পর্যন্ত চোখে পড়ছে না কেন? হিন্দুর আবেগ আহত হলে তাদের কিছু যায় আসে না? বঙ্গবিজেপি কি হিন্দুদের ভোটকে Taken for granted ধরে নিয়েছে?

‘হিন্দু ব্যাটারা আর ভোট দেবে কাকে’? ‘বিজেপি ছাড়া বিকল্প আর জায়গা কোথায়’? হিন্দু সংগঠনগুলো তো আছেই চেচামেচি করার জন্য। আর আমরা আছি ফ্রি-তে তার লাভ নেওয়ার জন্য! তাই চুপচাপ থাকাই ভালো। আর হিন্দু সংগঠনগুলো বেশি বাড়াবাড়ি করে ফেললে সহজেই স্টেটমেন্ট দিয়ে দেওয়া যাবে- ”ওদের সাথে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। ওরা গুন্ডা বদমাইশদের দল”….. ইত্যাদি ইত্যাদি। তাতে মুসলিম ভোটারদের সামনেও নিজেদের সেকুলার ইমেজটা বজায় থাকে। কারণ ওদের ভোট না পেলে পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতা দখল করা অসম্ভব- বঙ্গবিজেপির নেতৃত্বের ভাবনাটা এইরকম নয়তো? এই ভাবনা নিয়েই যদি তারা চলে, তাহলে বিজেপি এই রাজ্যে ক্ষমতায় এলেও হিন্দুর কোনও লাভ হবে না। কারণ ক্ষমতায় এলেও এরা হিন্দুর আবেগকে মর্যাদা দেবে না।

মুসলমানরা শাসক দলকেও কব্জায় রেখেছে, পাশাপাশি ক্ষমতার দাবিদার বঙ্গবিজেপিকে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের লোভ দেখাতেও সফল হচ্ছে।

আর হিন্দুরা? ……একটু গভীর ভাবে ভাবুন… নিজেকে প্রশ্ন করুন… নিজেদের ভোটের মূল্য না বুঝলে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দর কষাকষি করতে না পারলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ড্রাইভিং সিটে হিন্দুরা আর কতদিন বসে থাকতে পারবে? এই ”কতদিন”- এর কাউন্ট‌ই হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ ও বাঙ্গালীর অস্তিত্বের সময়সীমা।

পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যত হোক পশ্চিমবঙ্গই – পশ্চিম বাংলাদেশ নয়

আজকেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ইন্দিরা আবাস, বেকার ভাতা, বিধবা ভাতা, বিপিএল কার্ড, ব্যাঙ্ক লোন থেকে শুরু করে সবুজায়ন – শিল্পায়ন – রাস্তাঘাট – কর্মসংস্থান অর্থাৎ ব্যক্তিগত এবং কিছুটা সমষ্টিগত উন্নতির চার দিকে আবর্তিত হচ্ছে৷ স্বাভাবিক অবস্থায় এটাই কাম্য৷ কিন্তু ভারতীয় রাজনীতিতে মুসলমানদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং এর পরিণাম সম্পর্কে উদাসীনতা দেখে মনে হচ্ছে আমরা বাড়িতে টাকা-পয়সা, সোনাদানা, দামী আসবাবপত্র সংগ্রহ করার নেশায় বাড়িতে নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় শক্ত দরজা জানলা লাগানোর কথাটা বেমালুম ভুলে যাচ্ছি৷ আমরা ঘরপোড়া গরু, কিন্তু সিঁদুরে মেঘ দেখেও না দেখার ভান করছি৷ যেদিন ধর্মের ভিত্তিতে বঙ্গদেশ ভাগ হয়েছিল, সেদিন কি শুধু অধুনা পূর্ববঙ্গের বাঙালী হিন্দুর পরাজয় হয়েছিল? আমরা, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীরাও কি সেদিন সেই ধর্মীয় বিচ্ছিন্নতাবাদের সামনে আত্মসমর্পণ করি নি? ইদানীং পশ্চিমবঙ্গের ২৭% মুসলিমদের পক্ষ থেকে মুসলিম নেতারা ৪৮টি বিধানসভা সিটের ভাগ্যবিধাতা বলে নিজেদের ঘোষণা করে কি শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক নেতাদেরকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন? নাকি এই চ্যালেঞ্জটা আপামর পশ্চিমবঙ্গবাসী বাঙালীর সামনে? আগামী পাঁচ বছর পরেও কি সংখ্যাটা ৪৮ই থাকবে? পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামের পাশে কোন হিন্দু পদবী আর কতদিন শোভা পাবে? এই সব প্রশ্নের শেষ কোথায়? শেষ প্রশ্নগুলি অবশ্যই এই রকম – পশ্চিমবঙ্গ কবে কাশ্মীরে পরিণত হবে? পশ্চিমবঙ্গ কবে হিন্দুবিহীন হবে? পশ্চিমবঙ্গ কবে বাংলাদেশ হয়ে যাবে?


মোদ্দা কথা অধিকাংশ বাঙ্গালী ভয়ে এই সব প্রশ্নগুলোকে এড়িয়ে যাচ্ছে৷ মানসিক ভাবে তারা হার মেনে নিয়েছে৷ না হলে বেড়া না দিয়ে সব্জী চাষ করার মত নির্বোধের কাজ অন্তত বাঙ্গালী বুদ্ধির সাথে ম্যাচ করে না৷ সাহস অবলম্বন করুন৷ আসুন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের নিরাপদ জীবনের কথা ভেবে কিছুদিনের জন্য ইন্দিরা আবাস আর চাকরীর কথা ভুলে যাই৷ আপনার আজকের নীরবতা আপনার সন্তানকে প্রতিদিন একটু একটু করে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আসুন, শপথ করি- পশ্চিমবঙ্গকে কাশ্মীর হতে দেব না৷ পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাঙালীয়ানাকে হারিয়ে যেতে দেব না৷ জলকে জল না বলে পানি বলার মত পরিস্থিতি হতে দেব না৷ আমরা স্নান করবো, গোসল করতে বাধ্য হব না৷ আমরা যদি চেক লুঙ্গি পরি, সেটা পরবো নিজের ইচ্ছায়, বাধ্য হয়ে নয়৷

পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে গ্রামে পৌষ মেলা হবে, চড়কপূজা হবে৷ মা কালী পাঁঠার মাথা খাবে, বুড়ো শিব ডুগডুগি বাজাবে৷ মা দুর্গাকে বিদায় দিতে গিয়ে দশমীর দিন আমার মায়েরা চোখের জল ফেলবে৷ লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরে আমার বোনেরা সরস্বতী পূজো করবে, কালো বোরখার অন্ধকারে তারা হারিয়ে যাবে না৷ বাঙ্গালীর মনে বীরভূমের বাউল, মালদার গম্ভীরা আর পুরুলিয়ার ছৌ-নৃত্যের স্থান আলকাফ আর জালসা কোনদিন নিতে পারবে না – চলুন, এই স্বপ্ন নিয়ে সব নেতাদের কাছে একবার আমরা যাই৷ চলুন জেনে আসি কে পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিমবঙ্গই রাখতে চায়৷ তারপরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি আমার পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিধানসভা পর্যন্ত সমস্ত ক্ষমতা আমরা কাদের হাতে তুলে দেব৷ পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যত হোক পশ্চিমবঙ্গই – পশ্চিম বাংলাদেশ নয়৷

আইডেনটিটির ইস্তেমাল

মনে করুন বাংলাদেশের এক‌ই গ্রাম থেকে দুজন মুসলমান ভারতে ঢুকলো। একজন গেলো আসামের অহমীয়া প্রধান জোরহাটে, অন্যজন সেই আসামের‌ই বাঙালি অধ্যুষিত হাইলাকান্দিতে।
প্রথম জন নিজের পরিচয় দেবে – আমি একজন অহমীয়া। ভাঙাফাটা অসমীয়া ছাড়া কখনোই সে বাংলায় কথা বলবে না। বাঙালি দেখলে বলবে কেলা বঙ্গালি। সে তাম্বুল পান খাবে। বিহুতে আনন্দ করবে। তার বাংলাদেশী পরিচয় লুকিয়ে তখন সে একজন ভূমিপুত্র অহমীয়া।


দ্বিতীয় জন কাঁচা কাছাড়ি ভাষায় কথা বলবে।  জনগণনার সময় নিজের পরিচয় নথিভুক্ত করাবে বাঙালি হিসেবে। সে তাম্বুলের পরিবর্তে সাদার গুড়া(তামাক পাতার গুড়ো) দিয়ে পান খাবে। বিহুর পরিবর্তে সে গাইবে – কে যাস্ রে ভাটিগাঙ্ বাইয়া….., সে নাচবে ধামাইল। সে একজন আদ্যোপান্ত বাঙালি হয়ে প্রতিদিন অবাঙালিদের বাপ বাপান্ত করবে ।


আসলে তারা অসমিয়াও নয়, বাঙালিও নয়। পুরোটাই আইডেনটিটির ইস্তেমাল। এই গেমপ্ল্যানটা বুঝতে হবে। না বুঝলেই আবার রিফিউজি।

হালাল কি এবং কেন এটি বর্জন করা প্রয়োজন

অনেকের ধারণা একমাত্র জবাই করে কাটা পশুর মাংসই হলো হালাল। বাস্তবে হালাল শব্দের অর্থ ‘ইসলাম অনুযায়ী বৈধ’ অথবা ‘শরিয়া আইন দ্বারা অনুমোদিত’। ইসলামের অনুশাসন অনুযায়ী জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রেই হালাল(বৈধ) এবং হারাম(অবৈধ) এর বিধান নিশ্চিত করে বলা আছে। মুসলমানদের জন্য সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত সব কার্যকলাপ ফরজ(কর্তব্য), মুস্তাহাব(প্রস্তাবিত), হালাল(বৈধ), হারাম(অবৈধ) এবং মক্রুহ্(বৈধ নয়, আবার একেবারে নিষিদ্ধও নয়)- এভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা আছে।খাদ্যের মধ্যে মূলতঃ শুকর, জবাই না করে কাটা পশুপাখী, আল্লাহ্-র নাম না নিয়ে জবাই করা পশুপাখী, রক্ত, নেশার বস্তু(মদ সহ), মৃত পশুপাখীর মাংস(তবে মৃত মাছ বাদে) – এগুলো হারাম। তবে কোরানে একথাও বলা আছে যে যখন হারাম খাবার না খেলে বেঁচে থাকা যাবে না, তখন জীবন রক্ষার্থে হারাম খাবারও হালাল হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও নামাজ পড়া, অজু করা, স্ত্রী সঙ্গম, লুটের মাল গ্রহণ থেকে শুরু করে মল-মূত্র ত্যাগেও হালাল-হারামের ব্যাপার স্যাপার আছে।বিশ্বব্যাপী বিশাল মুসলিম জনসংখ্যা একটা লোভনীয় বাজার। এই বাজারকে কাজে লাগিয়ে ইসলামী উম্মা-র শক্তিবৃদ্ধি করা, বিশেষতঃ অমুসলমানদের কাছ থেকেও এই কাজে শক্তি সংগ্রহ করার কৌশলের নাম হলো হালাল সার্টিফিকেশন। পৃথিবীতে অনেকগুলো সংস্থা তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রোডাক্ট, ব্র্যান্ড, রেস্টুরেন্টকে হালাল সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য। এই সার্টিফিকেটের বিনিময়ে মোটা টাকা বিভিন্ন কোম্পানীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনবাজারে নিজেদের মাল বিক্রীর লোভে বড় থেকে ছোট অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এই হালাল সার্টিফিকেট কেনে মোটা টাকার বিনিময়ে। ভারতে হালাল সার্টিফিকেশনের বড় সংস্থাগুলি হলো গ্লোবাল ইসলামিক শরিয়া সার্ভিসেস্ (GISS), হালাল ফুড অথরিটি (HFA), জমিয়ত উলেমা–এ–হিন্দ হালাল ট্রাস্ট প্রভৃতি। আমরা অনেকেই কেএফসি, জোম্যাটো প্রভৃতি ব্র্যান্ডের খাবার খেয়ে থাকি, যে ব্র্যান্ডগুলো হালাল সার্টিফায়েড। এছাড়াও ভারতের ছোট-বড় অধিকাংশ হোটেল-রেস্টুরেন্টেই হালাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি বড় বড় হরফে লেখা থাকতে দেখা যায়। এখন পাড়ায় পাড়ায় মাংসের দোকানগুলোতেও হালাল ছাড়া পাওয়া যায় না। যদিও আগেই বলেছি হালাল সার্টিফিকেশন শুধুমাত্র খাদ্যাখাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধপত্র, এফএমসিজি প্রোডাক্টও এর আওতায় পড়ে।ষ্টেট অফ গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমী নামক সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী  বিশ্বব্যাপী হালাল সার্টিফায়েড  সামগ্রীর বাৎসরিক বাজার মূল্য ২.১ লক্ষ কোটি ডলারেরও বেশী। এই বিপুল টাকার একটা অংশ নিয়মিতভাবে কট্টর ইসলামিক সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, যারা হালাল সার্টিফিকেট দেওয়ার অধিকারী। এখন এই টাকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ধর্মান্তরণের কাজে, শরিয়া আইন প্রচারের কাজে ব্যবহার হচ্ছে না কিংবা জাহাদী সন্ত্রাসবাদীদের হাতে অথবা ভারতের শত্রুদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে না তা নিশ্চিত করে কে বলতে পারে?এবার একটু মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখা যাক এই হালাল এবং আমাদের ঝটকা মাংসের বিষয়টাকে।  হালালের সময়, একটি ধারালো ছুরিকে প্রাণীটির গলায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তারপর ছুরিটিকে না তুলে বারবার গলায় চালানো হয় যাতে শ্বাসনালী, খাদ্যনালী, মস্তকে রক্তসংবহনকারী স্কন্ধদেশের ধমনী (carotid arteries), স্কন্দদেশের শিরা (jugular vein) এবং ভেগাস স্নায়ু খণ্ডিত হয়। এতে শরীর থেকে রক্ত নির্গত হতে থাকে এবং প্রাণীটি পরিণামে প্রাণ হারায়। এই পদ্ধতিকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলে ventral neck incision (VNI)। এতে মেরুদণ্ডের স্নায়ুতন্ত্র প্রাণীটির মৃত্যু হওয়া পর্যন্ত অক্ষত থাকে। অপরপক্ষে আমাদের ঝটকা পদ্ধতিতে হত্যার সময়, ঘাড়ের পিছনের দিকে (dorsal neck) কাটা হয় যাতে মাথার খুলিকে মেরুদণ্ডের সুষুম্নাকাণ্ড (spinal cord) থেকে নিমেষে আলাদা করা হয়। কেবল ঘাড়ের কর্তন (cervical dislocation)-ই নয়, বরং এক আঘাতে মস্তকের শরীর থেকে বিচ্ছন্ন করাই এর উদ্দেশ্য। তাই এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয় অপেক্ষাকৃত ভারী এবং ধারালো অস্ত্র। সাধারণভাবে আমাদের শরীরের, আরও সঠিকভাবে বললে সোমাটিক কোষগুলো থেকে কোন অনুভূতি কিছু বিশেষ প্রোটিন (বৈজ্ঞানিক পরিভাষায়, cognate receptor proteins) লাভ করে যারা সেই অনুভূতিকে স্নায়ুর মাধ্যমে প্রেরণ করে। স্নায়ু আসলে কিছু নিউরোণ কোষের সমষ্টি মাত্র। স্নায়ু অনুভূতিকে মেরুদণ্ডের সুষুম্নাকাণ্ডের মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। মস্তিষ্ক এই অনুভূতির প্রতিক্রিয়া সেই সুষুম্নাকাণ্ডের নিউরোণের মাধ্যমেই পাঠায় মাংসপেশীগুলিতে (effector muscles)। মাংসপেশীগুলি মস্তিষ্ক প্রেরিত বার্তাকে ক্রিয়াতে রূপ দেয়। হালালের সময় এই তীব্র যন্ত্রণার অনুভুতি পাঠানোর স্নায়ু বিচ্ছিন্ন হয় না। ফলে পশুটি সেই যন্ত্রণা সম্পূর্ণ সচেতনভাবে অনুভব করতে থাকে। পক্ষান্তরে ঝটকার সময় এই পথটিকে নিমেষের মধ্যে ছিন্ন করা হয়। ফলে ঝটকার সময় বলিপ্রদত্ত প্রাণীটির ব্যথার অনুভূতি সেই মুহূর্তেই হারিয়ে যায়। ব্যথা পরিমাপের এক স্বীকৃত পদ্ধতি হল ইইজি বা ইলেক্ট্রো এনসেফ্যালোগ্রাম। এই যন্ত্রটি মস্তিষ্কের নিউরোণের বৈদ্যুতিক বার্তাকে পরিমাপ করে। গরু বা ভেড়ার মত শান্ত প্রাণীরা তাদের যন্ত্রণার অনুভূতিকে বাইরে সবসময় প্রকাশ করে না। কিন্তু ইইজি পদ্ধতিতে তাদের ব্যথা স্পষ্টতই প্রকাশ পায়। বৈজ্ঞানিকরা দেখিয়েছেন যে ঝটকা পদ্ধতিতে প্রাণীবধ করলে শিরচ্ছেদের ৫ সেকেণ্ডের মধ্যেই মস্তিষ্কের (cerebral cortex) কার্য বন্ধ হয়। কিন্তু হালালের ক্ষেত্রে প্রাণীটি অনেক সময়ে তার শরীর থেকে চামড়া ছাডিয়ে নেওয়া পর্যন্ত, এমনকি তার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ শরীর থেকে আলাদা করা পর্যন্ত সচেতন অবস্থায় সেই তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকে। এবার আপনারাই ভাবুন কোন পদ্ধতিটা তুলনামূলক মানবিক!এবার দেখা যাক আমাদের স্বাস্থ্যের উপরে হালাল এবং ঝটকা মাংসের প্রতিক্রিয়া কি। বিভিন্ন গবেষকরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে হালাল পদ্ধতিতে প্রাণীবধের সময় প্রাণীগুলি ভীষণ বেদনা বা স্নায়ুমণ্ডলীর ধকল (stress) অনুভব করে। গরু-ষাঁড়, ছাগল ইত্যাদি প্রাণীর ক্ষেত্রে এর ফলে তিনটি ষ্ট্রেস হরমোন (stress hormones), যথা কর্টিসোল (cortisol), নর-এড্রিনালিন (nor-adrenaline) এবং ডোপামাইন (dopamine) ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। কারণটি খুবই সরল,  এই তিনটি হরমোন সমেত আমাদের বেশির ভাগ হরমোনের নিঃসরণই মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অঞ্চলের  দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আমেরিকান বৈজ্ঞানিক টেম্পল গ্র্যাণ্ডিন দেখিয়েছেন  যে প্রাণীদের সংজ্ঞাহীন করে (stunning) হত্যা না করলে রক্তে কর্টিসোলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং তাতে মাংসপেশীর তাপমাত্রাও বাড়ে। সাধারণত স্নায়বিক ধকলের কারণে এড্রিনালিন হরমোনের পরিমিত ক্ষরণে মাংসপেশীর গ্লাইকোজেন ল্যাকটিক অ্যাসিডে পরিণত হয়। ফলে মাংসের পিএইচ কমে (অর্থাৎ  মাংস অ্যাসিডিক হয়)। তার ফলে মাংস যে কেবল গোলাপী এবং নরম থাকে তাই নয়, উপরন্তু মাংসে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায় না। অপরপক্ষে প্রাণীটিকে যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতিতে হত্যা করলে স্নায়ুর ধকল বাড়ে। ফলে এড্রিনালিন হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণে মাংসপেশীর গ্লাইকোজেন খুব তাড়াতাড়ি নিঃশেষিত হয়। ফলে মাংস যথন রান্না করা হয় ততক্ষণে তাতে আর ল্যাকটিক অ্যাসিড অবশিষ্ট থাকে না। ফলে মাংসের পিএইচ বাড়ে এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যায়। অর্থাৎ, হালাল মাংস স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে।সব থেকে বড় কথা, এই হালাল হলো মুসলমানদের জন্য শরিয়া অনুমোদিত ব্যবস্থা। এই শরিয়া ব্যবস্থা আমাদের মত অমুসলমানদের জন্য নয়। তাহলে আমরা আংশিক হলেও এই রিগ্রেসিভ, অবৈজ্ঞানিক এবং অমানবিক ইসলামিক শরিয়া আইন নিজেদের উপরে চাপিয়ে নিচ্ছি কেন? আমরা কি এতটাই অসহায় এবং অযোগ্য যে ইসলামের এই সাম্রাজ্যবাদী কৌশলের সামনে আজ আমাদের নতজানু হয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে? আমাদেরও তো একশ কোটির বাজার আছে! প্রয়োজনে আমরাও কি বিকল্প একটা সনাতনী স্টান্ডার্ডের কথা ভাবতে পারি না?যাইহোক, সব দিক থেকে বিচার করলে এই হালাল ব্যবস্থা অত্যন্ত অবৈজ্ঞানিক, অমানবিক, ইসলামের অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদের নামান্তর। সর্বোপরি আমাদের এই পদ্ধতির মাধ্যমে আংশিকভাবে ইসলামিক শরিয়া আইন পালনে বাধ্য করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক। তাই আসুন আমরা আপাতত সংকল্প করি আর হালাল নয়, আর অবৈজ্ঞানিক এবং অমানবিক রিগ্রেসিভ ভাবধারার দাসত্ব নয়। আসুন আজ থেকেই সবাই হালাল বর্জন করি।

আসছে ১৬ই আগস্ট, রক্ত শোধের দিন

১৯৪৬ এর ১৬ই আগষ্ট আমার  জাতিসত্তাকে খুন করার দিন। বিশ্বাসঘাতক মুসলিম লীগের হিন্দু গণহত্যার দিন। কল্লোলিনী তিলোত্তমা কলকাতাকে সনাতনী রক্তের নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার দিন। আবার ১৯৪৬ এর ১৬ই আগষ্ট আমাকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রেরণাও দেয়। আত্মবিস্মৃত বাঙলার হিন্দু সমাজকে নতুন করে জিহাদী অত্যাচারের ইতিহাসের সামনে বার বার দাঁড় করিয়ে দেওয়ার জন্যই হিন্দু সংহতির জন্ম। হিন্দু সংহতির জন্ম নতুন ইতিহাস গড়ার জন্যও। অবশ্যই দেখুন ও শেয়ার করুন হিন্দু সংহতি মিডিয়া প্রোযোজিতডকুমেন্টারি,” রক্ত শোধের দিন, ১৬ই আগষ্ট।”

পশ্চিমবঙ্গে জনজাগরণ

পশ্চিমবঙ্গে জনজাগরণ! এর মানে কি? বাঙালির জাগরণ ঘটানোর দরকার আছে? বাঙালি এত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকে কিভাবে? দেশ হারিয়ে উদ্বাস্তু হ‌ওয়ার যন্ত্রণা! প্রিয়জনের নির্মম হত্যা, ধর্ষণের প্রত্যক্ষদর্শী হ‌ওয়ার যন্ত্রণা! শরীরের রক্ত জল করে গড়ে তোলা বাড়ি, ব্যবসা হাতছাড়া হয়ে যা‌ওয়ার যন্ত্রণা! কার‌‌ও দিদি, কার‌ও বোনকে ভাগ করে নিলো ওরা নিজেদের মধ্যে গণিমতের মাল হিসেবে। এদিকে অসহায়, ফ্যালফ্যাল করে পিছনের দিকে তাকাতে তাকাতে কাঁটাতার পেরিয়ে এপারে চলে আসা বাঙালি, বুকে আজও সেই অব্যক্ত যন্ত্রণা নিয়ে ঘুমিয়ে থাকে কিভাবে? ওপারে মালাউনের বাচ্চা, এপারে রিফিউজির বাচ্চা তকমা নিয়ে বাঙালি ঘুমায় কিভাবে! ওপারের নোয়াখালী, ভৈরবের চরের রক্তাক্ত পথ ধরে এপারের নলিয়াখালি, দেগঙ্গা, বাদুড়িয়া, ধূলাগড়, বগাখালিতে পৌঁছে বাঙালি আজ ঘুমিয়ে থাকে কিভাবে! আমি বিশ্বাস করি না বাঙালি ঘুমিয়ে আছে। তাই তাকে জাগানোর চেষ্টা করোর কোনও প্রয়োজন নেই। বাঙালি প্রতি মুহূর্তে চিৎকার করে তার যন্ত্রণাকে ব্যক্ত করতে চায়। কিন্তু তার কথা শোনে কে? সেকুলারিজম আর লিবারালিজমের ভন্ডামির ঢাকের আওয়াজে বাঙালির এই চিৎকার চাপা পড়ে আছে আজও। তাই প্রশ্ন হলো আজ কে কাকে জাগাবে? যারা জনজাগরণ করতে চাইছে তারা নিজেরাই আগে জাগ্রত হয়ে কান পাতুক বাঙালির মনের মণিকোঠায়। জানার চেষ্টা করুক বাঙালির সামনে প্রায়োরিটি কি – রাজ্যব্যাপী অসংখ্য স্থানে মগরাহাটের সেলিম, জীবনতলার সৌকত মোল্লা, সরবেড়িয়ার সাজাহান শেখ, হাসনাবাদের বাবু মাস্টার, কীর্ণাহারের মনিরুল, ভাঙ্গড়ের আরাবুল-কাইজার, মিনাখাঁর আয়ুব গাজীদের পরিচালিত সমান্তরাল জেহাদী শাসনের অবসান, নাকি ইলেকট্রিক বিলের খরচা কমানো।